ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নড়াইলে নদীভাঙনে হুমকিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়ি

নড়াইল সংবাদদাতা
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৩ বার পঠিত

নড়াইলে নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাজারখালি মহাশ্মশানসহ আশপাশের বসতবাড়ি। ইতিমধ্যে ভাঙনে মহাশ্মশানের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরেও দেখা দিয়েছে ফাটল। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চিকিৎসাসেবা ও মরদেহ সৎকার নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকার চিত্র। হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরে ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় ভাঙনে সীমানাপ্রাচীরসহ স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এলাকাবাসী জানান, আশপাশের তিন গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বাজারখালি মহাশ্মশানে মরদেহ দাহ করেন। কিন্তু নদীভাঙনে শ্মশানের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাত জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। বসার স্থান ও চিতা তৈরির জায়গারও একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মরদেহ সৎকারের জন্য জায়গা সংকট দেখা দিতে পারে।

ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নদীতীরবর্তী বসতবাড়িও। স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বলেন, তাঁর বাড়ির সামনের অংশে এর আগে দুই দফা নদীভাঙন হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার ভাঙন শুরু হলে তাঁর বাড়িও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কাদের পিন্টু বলেন, এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেই। এর মধ্যে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটিও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই দ্রুত ভাঙনরোধে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নদীভাঙন রোধে জরুরি কাজ শুরুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য একটি ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পর নড়াইল জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধ করা না গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ট্যাগস :

নড়াইলে নদীভাঙনে হুমকিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়ি

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নড়াইলে নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাজারখালি মহাশ্মশানসহ আশপাশের বসতবাড়ি। ইতিমধ্যে ভাঙনে মহাশ্মশানের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরেও দেখা দিয়েছে ফাটল। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চিকিৎসাসেবা ও মরদেহ সৎকার নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকার চিত্র। হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরে ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় ভাঙনে সীমানাপ্রাচীরসহ স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এলাকাবাসী জানান, আশপাশের তিন গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বাজারখালি মহাশ্মশানে মরদেহ দাহ করেন। কিন্তু নদীভাঙনে শ্মশানের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাত জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। বসার স্থান ও চিতা তৈরির জায়গারও একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মরদেহ সৎকারের জন্য জায়গা সংকট দেখা দিতে পারে।

ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নদীতীরবর্তী বসতবাড়িও। স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বলেন, তাঁর বাড়ির সামনের অংশে এর আগে দুই দফা নদীভাঙন হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার ভাঙন শুরু হলে তাঁর বাড়িও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কাদের পিন্টু বলেন, এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেই। এর মধ্যে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটিও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই দ্রুত ভাঙনরোধে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নদীভাঙন রোধে জরুরি কাজ শুরুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য একটি ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পর নড়াইল জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধ করা না গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।