ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে মানবপাচার চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

সৌদিতে চাকরির নামে পাচার, আটকে রেখে নির্যাতন

যশোর দর্পণ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪ বার পঠিত

সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার পর ভুক্তভোগীকে দেশটিতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে একটি বাসায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা দাবি এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চক্রটির এক সদস্য সালমান হোসেনকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর থানাধীন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট (টিএইচবি)। গ্রেপ্তার সালমান হোসেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার শংকরপুর (গাইনপাড়া) এলাকার শহীদ শেখের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেয় মানবপাচার চক্রটি। পরে ২০২৫ সালের ৭ জুন তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে সালমান হোসেন ও তার সহযোগীরা তাকে একটি বাসায় আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।

পরে আকামা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের জন্য তাকে শারীরিক নির্যাতনও করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে মরুভূমি এলাকায় চলে যান ভুক্তভোগী। পরে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। প্রায় এক বছর পর ২০২৬ সালের ২২ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ সাভার থানায় মামলা করেন। মামলায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২), ৭ ও ৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে সালমান হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সৌদি আরবে ভুক্তভোগী তার বাসাতেই আটক ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলাটি বর্তমানে সিআইডির মানবপাচার শাখা তদন্ত করছে। চক্রের অন্য সদস্য, পলাতক আসামি এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

বিদেশে চাকরি বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে টাকা বা পাসপোর্ট না দিতে নাগরিকদের সতর্ক করেছে সিআইডি। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভিসার নামে অস্বাভাবিক অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি, ভিসা জালিয়াতি কিংবা মানবপাচারের সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।

ট্যাগস :

৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে মানবপাচার চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

সৌদিতে চাকরির নামে পাচার, আটকে রেখে নির্যাতন

আপডেট সময় : ০৭:৪২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার পর ভুক্তভোগীকে দেশটিতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে একটি বাসায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে আরও টাকা দাবি এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চক্রটির এক সদস্য সালমান হোসেনকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর থানাধীন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট (টিএইচবি)। গ্রেপ্তার সালমান হোসেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার শংকরপুর (গাইনপাড়া) এলাকার শহীদ শেখের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেয় মানবপাচার চক্রটি। পরে ২০২৫ সালের ৭ জুন তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে সালমান হোসেন ও তার সহযোগীরা তাকে একটি বাসায় আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।

পরে আকামা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের জন্য তাকে শারীরিক নির্যাতনও করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে মরুভূমি এলাকায় চলে যান ভুক্তভোগী। পরে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। প্রায় এক বছর পর ২০২৬ সালের ২২ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ সাভার থানায় মামলা করেন। মামলায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২), ৭ ও ৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে সালমান হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সৌদি আরবে ভুক্তভোগী তার বাসাতেই আটক ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলাটি বর্তমানে সিআইডির মানবপাচার শাখা তদন্ত করছে। চক্রের অন্য সদস্য, পলাতক আসামি এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

বিদেশে চাকরি বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে টাকা বা পাসপোর্ট না দিতে নাগরিকদের সতর্ক করেছে সিআইডি। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভিসার নামে অস্বাভাবিক অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি, ভিসা জালিয়াতি কিংবা মানবপাচারের সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।