ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুদক কর্মকর্তাকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫ বার পঠিত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান আসিফ মাহমুদ।

স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে তাঁকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত—জনমনে এমন ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর ওই বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬—অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায়।

এ অবস্থায় দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার জন্যও তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

দুদক কর্মকর্তাকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান আসিফ মাহমুদ।

স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে তাঁকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত—জনমনে এমন ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর ওই বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির ঘটনা ঘটে ১১ মে ২০২৬—অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায়।

এ অবস্থায় দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার জন্যও তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আখতারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।