ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় বিজয়ী, এখন গণতন্ত্র দীর্ঘায়িত করতে হবে: নার্গিস বেগম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৬ বার পঠিত

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছি। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আপাতত সেই লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছি। এখন গণতান্ত্রিক ধারাকে দীর্ঘায়িত করতে হবে। এ জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পথচলা সহজ করতে হবে।

বুধবার জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা মহিলা দলের আয়োজনে র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, সরকারের পথচলা সহজ করতে যে জনশক্তি তৈরি করা প্রয়োজন এবং যে কাজগুলো করা দরকার, সেগুলো করতে হবে। নিজের দায়িত্ববোধ থেকে এবং সমাজের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে প্রত্যেককে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বুঝে তা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে হটিয়েছি। কেন এই আন্দোলন করেছি এবং কী প্রতিষ্ঠার জন্য করেছি, সেটিও মানুষকে জানাতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাজনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী মহিলা দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নারীসমাজকে উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রেখে কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না। এ কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে সম্পৃক্ত করেছিলেন। দেশের মূল স্রোতের বাইরে থাকা নারীদের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ ধারা অব্যাহত রেখে আরও বিস্তৃত করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি হাসিনা ইউসুফের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, শহিদুল বারী রবু, সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইসহক, সাবেক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মারুফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল।

এ ছাড়া জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, যুগ্ম সম্পাদক রাফাত আরা ডলি, সদর উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি সেলিনা পারভীন শেলী, জেলা মহিলা দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারা পারভীন আনুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

ট্যাগস :

গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় বিজয়ী, এখন গণতন্ত্র দীর্ঘায়িত করতে হবে: নার্গিস বেগম

আপডেট সময় : ১০:৪২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছি। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আপাতত সেই লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছি। এখন গণতান্ত্রিক ধারাকে দীর্ঘায়িত করতে হবে। এ জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পথচলা সহজ করতে হবে।

বুধবার জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা মহিলা দলের আয়োজনে র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, সরকারের পথচলা সহজ করতে যে জনশক্তি তৈরি করা প্রয়োজন এবং যে কাজগুলো করা দরকার, সেগুলো করতে হবে। নিজের দায়িত্ববোধ থেকে এবং সমাজের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে প্রত্যেককে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বুঝে তা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে হটিয়েছি। কেন এই আন্দোলন করেছি এবং কী প্রতিষ্ঠার জন্য করেছি, সেটিও মানুষকে জানাতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।

অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাজনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী মহিলা দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নারীসমাজকে উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রেখে কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না। এ কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে সম্পৃক্ত করেছিলেন। দেশের মূল স্রোতের বাইরে থাকা নারীদের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ ধারা অব্যাহত রেখে আরও বিস্তৃত করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি হাসিনা ইউসুফের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, শহিদুল বারী রবু, সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইসহক, সাবেক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মারুফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল।

এ ছাড়া জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী বেগম, যুগ্ম সম্পাদক রাফাত আরা ডলি, সদর উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি সেলিনা পারভীন শেলী, জেলা মহিলা দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারা পারভীন আনুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।