গণতন্ত্র সুসংহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১০:০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / ৪২ বার পঠিত

অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার সময়। এ পথচলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
বার্তায় তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সাল থেকে দেশে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দায়িত্ব সবার।
শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য—‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’—বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা কারিকুলাম আধুনিক ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।
গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণার বিকল্প নেই। তিনি দেশ-বিদেশে কর্মরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা অর্জন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে তরুণরা শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হন।
বার্তার শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তারেক রহমান।















