ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

জাপানে ভূমিকম্পে নিহত ১৩

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৬ বার পঠিত

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিট) কিউশুর কুমামোতো জেলার সাগর উপকূলের ২০ কিলোমিটার গভীরে এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। জাপানের আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল অগভীর সমুদ্র এলাকায়। এ কারণে ভূপৃষ্ঠে এর তীব্র কম্পন অনুভূত হয় এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুমামোতো জেলা।

মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, এখনও বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগাব।”

ভূমিকম্পের পরপরই কুমামোতোর বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধারকর্মীদের রাতভর অভিযানের পর বুধবার সকাল পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতোর একটি শপিংমলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সরবরাহ লাইনে লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০ বছর বয়সী দুই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ৩৬ হাজারের বেশি বাড়িঘর এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়ক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার অধিকাংশ সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আফটারশকের আশঙ্কায় কুমামোতোর অনেক বাসিন্দা এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাসের এই শহরে বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের সন্ধানে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :

ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

জাপানে ভূমিকম্পে নিহত ১৩

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৭ মিনিট) কিউশুর কুমামোতো জেলার সাগর উপকূলের ২০ কিলোমিটার গভীরে এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। জাপানের আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল অগভীর সমুদ্র এলাকায়। এ কারণে ভূপৃষ্ঠে এর তীব্র কম্পন অনুভূত হয় এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কুমামোতো জেলা।

মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, এখনও বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগাব।”

ভূমিকম্পের পরপরই কুমামোতোর বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধারকর্মীদের রাতভর অভিযানের পর বুধবার সকাল পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতোর একটি শপিংমলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সরবরাহ লাইনে লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০ বছর বয়সী দুই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ৩৬ হাজারের বেশি বাড়িঘর এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়ক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার অধিকাংশ সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আফটারশকের আশঙ্কায় কুমামোতোর অনেক বাসিন্দা এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাসের এই শহরে বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের সন্ধানে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

সূত্র: রয়টার্স