
মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও শেষ মুহূর্তে যেতে না পারা হাজারো বাংলাদেশি কর্মীর চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা নিরসনে মাঠে নেমেছে সরকার। এ ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের শেষ মুহূর্তের দুর্ভোগ, বিমানের টিকিটের কৃত্রিম সংকট এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশটিতে যেতে না পারার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেও সময়মতো টিকিট সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল নয়, প্রতারক এজেন্সির মালিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলাও দায়ের করা হবে। কর্মীদের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও কতজন কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারেননি, তাদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় বঞ্চিত কর্মীদের পুনরায় যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি কিংবা সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। কোনো সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী চক্রের কাছে সরকার মাথা নত করবে না। অভিবাসন খাতকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শেষ মুহূর্তে চড়া মূল্যে টিকিট কিনেও অনেক কর্মী উড়োজাহাজ সংকটের কারণে মালয়েশিয়া পৌঁছাতে পারেননি। আবার অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি সময়মতো টিকিট বুকিং না করায় কর্মীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএমইটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















