ঢাকা ০৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক পোস্টের জেরে দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা

এস এম তাজাম্মুল, মনিরামপুর (যশোর)
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩০ বার পঠিত

যশোরের মণিরামপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রিয়াদ হোসেন (২৪) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পারখাজুরা বাজারে মনিরুজ্জামান মনিরের ইমন স্টোর এবং চাকলা-কাঁঠালতলা বাজারে তাঁর মাংসের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি স্থানীয় বিএনপির নেতা ও ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী।

মনিরুজ্জামান মনিরের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আঃ গফুরের সমর্থিত মশ্বিমনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এ সময় তাঁর প্রচারণার জন্য টানানো উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টুসহ স্থানীয় নেতাদের ছবি সংবলিত বেশ কিছু ফেস্টুনও বিনষ্ট করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, দোকানের ফ্রিজে রাখা প্রায় সাড়ে পাঁচ মণ মাংস ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে একই হামলাকারীরা ভোর ৫টার দিকে মনিরুজ্জামান মনিরের ভাই বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামের বাড়িতেও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাড়ির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং সিরাজুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়।

আহত রিয়াদ হোসেনের চোখের ওপর গুরুতর ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁর অভিযোগ, রোববার রাতে ফেসবুকে ভুলবশত একটি পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় সিনিয়ররা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। এরপর কোনো ধরনের নতুন বিরোধ ছাড়াই ভোররাতে তাঁর ওপর আকস্মিক হামলা চালানো হয়।

রিয়াদের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাতে তিনি তাঁর ছেলে ও ভাইপোকে নিয়ে সুমনদের সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে বাড়িতে ফেরেন। পরে আকস্মিক হামলায় তাঁর ছেলে আহত হওয়ায় চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় অভিযোগ করতে পারেননি।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন হোসেন। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কথা বলতে চান বলে জানান।

রোববার রাতের হাতাহাতির ঘটনা স্বীকার করে রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, ভাঙচুরের বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ট্যাগস :

ফেসবুক পোস্টের জেরে দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের মণিরামপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রিয়াদ হোসেন (২৪) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পারখাজুরা বাজারে মনিরুজ্জামান মনিরের ইমন স্টোর এবং চাকলা-কাঁঠালতলা বাজারে তাঁর মাংসের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি স্থানীয় বিএনপির নেতা ও ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী।

মনিরুজ্জামান মনিরের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আঃ গফুরের সমর্থিত মশ্বিমনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এ সময় তাঁর প্রচারণার জন্য টানানো উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টুসহ স্থানীয় নেতাদের ছবি সংবলিত বেশ কিছু ফেস্টুনও বিনষ্ট করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, দোকানের ফ্রিজে রাখা প্রায় সাড়ে পাঁচ মণ মাংস ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে একই হামলাকারীরা ভোর ৫টার দিকে মনিরুজ্জামান মনিরের ভাই বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামের বাড়িতেও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাড়ির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং সিরাজুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়।

আহত রিয়াদ হোসেনের চোখের ওপর গুরুতর ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁর অভিযোগ, রোববার রাতে ফেসবুকে ভুলবশত একটি পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় সিনিয়ররা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। এরপর কোনো ধরনের নতুন বিরোধ ছাড়াই ভোররাতে তাঁর ওপর আকস্মিক হামলা চালানো হয়।

রিয়াদের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাতে তিনি তাঁর ছেলে ও ভাইপোকে নিয়ে সুমনদের সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে বাড়িতে ফেরেন। পরে আকস্মিক হামলায় তাঁর ছেলে আহত হওয়ায় চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় অভিযোগ করতে পারেননি।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন হোসেন। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কথা বলতে চান বলে জানান।

রোববার রাতের হাতাহাতির ঘটনা স্বীকার করে রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, ভাঙচুরের বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।