
আঙ্গুরের বাগান করে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণবাটি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু এখন এলাকায় পরিচিত মুখ। ইউটিউব দেখে শুরু করা তার আঙুর চাষ আজ সাফল্যের নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ৩৭ শতক জমির বাগান থেকে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে চার মণ আঙুর সংগ্রহ করেছেন। এখনও বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা আঙুর।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পাশের এলাকায় একটি আঙুর বাগান দেখে জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু’র ছেলে তাকে আঙুর চাষে আগ্রহী করে তোলেন। পরে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন মিন্টু। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এক বছর আগে নিজের জমিতে গড়ে তোলেন আঙুরের বাগান। নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিশ্রমে অল্প সময়েই তার বাগানে এসেছে সফলতা।
বর্তমানে বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। দর্শনার্থীরা বাগানে এসে আঙুরের থোকার সঙ্গে ছবি তুলছেন, অনেকেই চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে বাগানটি এখন এক ধরনের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
বাগান ঘুরতে আসা সুজন হোসেন বলেন, আমরা ফেসবুক ও ইউটিউবে মিন্টু ভাইয়ের আঙ্গুর বাগানের খবর পেয়ে বাগানটি দেখতে এসেছি। বাগানে প্রচুর ফলন হয়েছে। তার এ বাগান দেখে আমরা অনুপ্রাণিত। আগামীতে হয়তো আমরাও আঙ্গুরের বাগান তৈরি করবো।
স্থানীয়দের মতে, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু’র এই উদ্যোগ এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। অনেক তরুণ এখন প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তারা আরও জানান, মনিরামপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু ছাড়াও জিয়াউর রহমান ও আকবর আলী নামে আরও দু’জন ব্যক্তি আঙ্গুর চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন।
আঙ্গুর চাষী জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বলেন, আঙ্গুর চাষ শুরু করলে এলাকার অনেক মানুষ তাকে নিয়ে উপহাস করতে শুরু করেন। তারা অনেকেই বলেছিলেন এ এলাকায় আঙুর হবে না। কিন্তু আমি চেষ্টা করেছি। এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইনের মাধ্যমে মানুষ আমার কাছ থেকে আঙুরের চারা কিনছেন।
তিনি আরও বলেন, এলাকার বেকার যুবকেরা যদি আঙুর চাষে আগ্রহী হন, তাহলে আমি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। সঠিক পরিচর্যা করলে আঙুর চাষ লাভজনক হতে পারে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে তিনি কোন ধরনের প্রশিক্ষণ বা পরামর্শ পাননি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সঠিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে তিনি মনিরামপুরসহ যশোরের মাটিতে আঙ্গুর চাষের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারবেন।
এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।






















