সংবাদ প্রকাশের পর অসুস্থ লেখক জুড়ান মণ্ডলের বাড়িতে ইউএনও
- আপডেট সময় : ০৭:০০:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৩ বার পঠিত

‘চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন লেখক জুড়ান মণ্ডল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর অসুস্থ ও অসহায় লেখক জুড়ান চন্দ্র মণ্ডলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার। তিনি অসুস্থ লেখকের বাড়িতে গিয়ে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে নগদ ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ইউএনও খাদিজা আক্তার উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে জুড়ান মণ্ডলের নিজ বাড়িতে যান। এ সময় তিনি তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
ইউএনওর এ মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অসুস্থ জুড়ান মণ্ডল ও তার পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকা একজন অসহায় মানুষের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এভাবে এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিতলমারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. একরামুল হক মুন্সীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, লেখক জুড়ান চন্দ্র মণ্ডল প্রায় ছয় মাস ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরের এক পাশ অচল হয়ে গেছে। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ানোও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অভাব-অনটনের সংসারে তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অথচ একসময় এই মানুষটিই ছিলেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পেশায় দর্জির কাজ করে সামান্য যে আয় করতেন, তা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ কিনে দিতেন। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস।
সমকালীন নানা বিষয় নিয়েও তিনি নিয়মিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করেছেন। লিখেছেন একাধিক নাটক। নিজের অর্থ ব্যয় করে সেসব নাটক মঞ্চায়নের উদ্যোগও নিয়েছেন। লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি মানুষকে আলোর পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
আজ সেই লেখক, নাট্যকার ও সমাজ হিতৈষী মানুষটিই অসুস্থ শরীর নিয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। একসময় যিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করেছেন, অর্থের অভাবে আজ তাকেই নিজের চিকিৎসার জন্য মানুষের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।
ইউএনও খাদিজা আক্তার বলেন, জুড়ান মণ্ডলের অসুস্থতার বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পরই তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। জুড়ান মণ্ডলের মতো একজন মহৎ ও সমাজসচেতন মানুষের পাশে সবাইকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সমাজের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা এমন একজন অসহায় মানুষের পাশে প্রশাসনের এই উদ্যোগ আশার আলো দেখিয়েছে। তবে এককালীন সহায়তার পাশাপাশি জুড়ান মণ্ডলের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
মানুষের জন্য যার কলম ও কর্ম ছিল নিবেদিত, আজ সেই মানুষটির জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা।
























