ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে আ.লীগের ২৭ নেতাকর্মী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ৫২ বার পঠিত

যশোর জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ২৭ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকায় ১৬ জন এবং মণিরামপুর, কেশবপুর, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ১১ নেতাকর্মী রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ পৃথক তিনটি মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। কোতোয়ালি থানার এসআই ইলিয়াস হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট যশোর শহরের লালদিঘির পাড়ে বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন আনিসুর রহমান সাজু, দেলোয়ার হোসেন, নাজমুল ওরফে তুহিন, মনিরুল ইসলাম এবং ইমরান খান বাদল।

অপরদিকে এসআই রাইসুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর যশোর-মণিরামপুর সড়কের কানাইতলা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন আলী রাজ, মারুফ খান, আলিমুল ইসলাম, রাহাত হোসেন, মাহবুবুর রহমান, দুলাল হোসেন এবং মামুন হোসেন।

এছাড়া এসআই অনুপ কুমার মণ্ডল জানান, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর যশোর শহরের উপশহর পার্ক রোডে পার্কিং করে রাখা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন রহিম ওরফে কালু, রফিকুল ইসলাম, জাহিদ হাসান এবং নেওয়াজ শরীফ ওরফে সাগর খন্দকার।

মণিরামপুর উপজেলায় গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন ঝাঁপা ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল গফুর (৫৮), সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী জাহিদ হাসান রসি (২৬), শ্যামকুড় ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম (৬৫), কুলটিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি মফিজুর রহমান (৪২) এবং নেহালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফুল কবির পলাশ (৩৬)। সোমবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। কেশবপুর উপজেলায় পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সালাউদ্দিন (৩৯) এবং মজিদপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামকে (৪৫) আটক করা হয়েছে।

চৌগাছা থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কামরুজ্জামান (৫২), নারায়ণপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি সোহরাফ হোসেন (৪৯) এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক শফিক হায়দার লাভলুকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুকেও নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, টিংকুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। এলাকায় ফিরে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। সোমবার আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ট্যাগস :

যশোরে আ.লীগের ২৭ নেতাকর্মী আটক

আপডেট সময় : ০১:১২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

যশোর জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ২৭ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকায় ১৬ জন এবং মণিরামপুর, কেশবপুর, শার্শা ও চৌগাছা উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ১১ নেতাকর্মী রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ পৃথক তিনটি মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। কোতোয়ালি থানার এসআই ইলিয়াস হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট যশোর শহরের লালদিঘির পাড়ে বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন আনিসুর রহমান সাজু, দেলোয়ার হোসেন, নাজমুল ওরফে তুহিন, মনিরুল ইসলাম এবং ইমরান খান বাদল।

অপরদিকে এসআই রাইসুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর যশোর-মণিরামপুর সড়কের কানাইতলা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন আলী রাজ, মারুফ খান, আলিমুল ইসলাম, রাহাত হোসেন, মাহবুবুর রহমান, দুলাল হোসেন এবং মামুন হোসেন।

এছাড়া এসআই অনুপ কুমার মণ্ডল জানান, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর যশোর শহরের উপশহর পার্ক রোডে পার্কিং করে রাখা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন রহিম ওরফে কালু, রফিকুল ইসলাম, জাহিদ হাসান এবং নেওয়াজ শরীফ ওরফে সাগর খন্দকার।

মণিরামপুর উপজেলায় গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন ঝাঁপা ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল গফুর (৫৮), সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী জাহিদ হাসান রসি (২৬), শ্যামকুড় ইউনিয়নের সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম (৬৫), কুলটিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি মফিজুর রহমান (৪২) এবং নেহালপুর ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফুল কবির পলাশ (৩৬)। সোমবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। কেশবপুর উপজেলায় পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সালাউদ্দিন (৩৯) এবং মজিদপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামকে (৪৫) আটক করা হয়েছে।

চৌগাছা থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কামরুজ্জামান (৫২), নারায়ণপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি সোহরাফ হোসেন (৪৯) এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক শফিক হায়দার লাভলুকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুকেও নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, টিংকুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। এলাকায় ফিরে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। সোমবার আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।