ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডনের রিমান্ড নিয়ে অসন্তুষ্ট সালমান শাহর মা

বিনোদন ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭ বার পঠিত

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের চার দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ডনের জিজ্ঞাসাবাদে সন্তুষ্ট নন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তাঁর দাবি, রিমান্ড শেষে নতুন কোনো তথ্য সামনে এসেছে বলে তিনি মনে করেন না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্য থেকে দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে নীলা চৌধুরী বলেন, ডনের কাছ থেকে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা, কার স্বার্থে এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বের করা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, ‘রিমান্ডে নতুন কী কিছু হয়েছে? রিমান্ড শেষে বলা হলো জড়িত পাওয়ার কথা জানা গেছে। এটা কী ধরনের অনুসন্ধান? সে তো ইমন (সালমান শাহ) হত্যার সঙ্গে যুক্ত। ডনের কাছ থেকে বের করতে হবে—কীভাবে সে ইমনকে হত্যা করেছে, কে কী স্বার্থে এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত, সেই তথ্য।’

রিমান্ড দ্রুত শেষ করা হয়েছে বলেও মনে করেন নীলা চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, শুরুতে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার কথা থাকলেও পরে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। কিন্তু চার দিন পরই ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড শেষে ডনের বের হওয়ার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সালমান শাহর মা। তিনি বলেন, ‘ডনকে দেখে বোঝার উপায় নেই সে রিমান্ড ফেরত। রিমান্ড ফেরত কেউ ওভাবে হাঁটে না।’

ডনের অসুস্থতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন নীলা চৌধুরী। তাঁর দাবি, অসুস্থতার কারণে রিমান্ডের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। তবে তাঁর মতে, প্রায় ৩০ বছর আগের এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আসামির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করা জরুরি। ডনের রিমান্ডে কী হয়েছে, তা জানতে তদন্তসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও জানান নীলা চৌধুরী। তবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘কথা হয়েছে। শুধু এটাই বলেছে, আমরা রিমান্ড করছি। কিন্তু কখন কী হচ্ছে, আমাদের তো জানা উচিত। এত বছর পর যদি এমন রিমান্ড হয়, সেটা আমাকে কখনোই সন্তুষ্ট করবে না। আমি এই রিমান্ডে সন্তুষ্ট নই।’

বাদী হিসেবে তদন্তের প্রয়োজনে ডনের জিজ্ঞাসাবাদের সময় উপস্থিত থাকার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডন খুনি, আমরা রিমান্ডের মাধ্যমে সব জানতে চাই, সে কী বলেছে। কর্মকর্তারা তদন্তের প্রয়োজনে চাইলে, সেখানে আমরা বাদী হিসেবে থাকব। আমার ভাইকে ডনের মুখোমুখি বসিয়ে দিক। আমিও ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকব। তাহলে তো আরও ভালো।’

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন ছাড়াও আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথা শুরু থেকেই বলে আসছেন নীলা চৌধুরী। ডন ছাড়া এখনো অন্য কাউকে গ্রেপ্তার না করায়ও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, এই মামলায় এখনো ডন ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারল না। এটা বিশ্বাসযোগ্য কোনো কথা বলে আমার মনে হয় না। আমরা আশা করেছিলাম পরে আরও আসামি ধরা পড়বে। সেটাও হলো না। যাকে ধরা হয়েছে, তাকে রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই অসুস্থ বলে ছেড়ে দিল।’

ডনের রিমান্ড, অসুস্থতা এবং রিমান্ড শেষে তাঁর বের হওয়ার বিষয়গুলো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নীলা চৌধুরী। তাঁর ভাষায়, ‘ডনকে রিমান্ডে নেওয়া, অসুস্থতা, গতকাল রিমান্ড শেষে উৎফুল্লভাবে হেঁটে যাওয়া—সবই ফানি মনে হচ্ছে। মানুষ একটি সত্যের বিচার চায়। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ সেদিকে নজর দেবে।’

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর ডনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলেও চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :

ডনের রিমান্ড নিয়ে অসন্তুষ্ট সালমান শাহর মা

আপডেট সময় : ০৬:০০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের চার দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ডনের জিজ্ঞাসাবাদে সন্তুষ্ট নন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তাঁর দাবি, রিমান্ড শেষে নতুন কোনো তথ্য সামনে এসেছে বলে তিনি মনে করেন না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্য থেকে দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে নীলা চৌধুরী বলেন, ডনের কাছ থেকে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা, কার স্বার্থে এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বের করা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, ‘রিমান্ডে নতুন কী কিছু হয়েছে? রিমান্ড শেষে বলা হলো জড়িত পাওয়ার কথা জানা গেছে। এটা কী ধরনের অনুসন্ধান? সে তো ইমন (সালমান শাহ) হত্যার সঙ্গে যুক্ত। ডনের কাছ থেকে বের করতে হবে—কীভাবে সে ইমনকে হত্যা করেছে, কে কী স্বার্থে এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত, সেই তথ্য।’

রিমান্ড দ্রুত শেষ করা হয়েছে বলেও মনে করেন নীলা চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, শুরুতে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার কথা থাকলেও পরে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। কিন্তু চার দিন পরই ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড শেষে ডনের বের হওয়ার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সালমান শাহর মা। তিনি বলেন, ‘ডনকে দেখে বোঝার উপায় নেই সে রিমান্ড ফেরত। রিমান্ড ফেরত কেউ ওভাবে হাঁটে না।’

ডনের অসুস্থতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন নীলা চৌধুরী। তাঁর দাবি, অসুস্থতার কারণে রিমান্ডের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। তবে তাঁর মতে, প্রায় ৩০ বছর আগের এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আসামির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করা জরুরি। ডনের রিমান্ডে কী হয়েছে, তা জানতে তদন্তসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও জানান নীলা চৌধুরী। তবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘কথা হয়েছে। শুধু এটাই বলেছে, আমরা রিমান্ড করছি। কিন্তু কখন কী হচ্ছে, আমাদের তো জানা উচিত। এত বছর পর যদি এমন রিমান্ড হয়, সেটা আমাকে কখনোই সন্তুষ্ট করবে না। আমি এই রিমান্ডে সন্তুষ্ট নই।’

বাদী হিসেবে তদন্তের প্রয়োজনে ডনের জিজ্ঞাসাবাদের সময় উপস্থিত থাকার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডন খুনি, আমরা রিমান্ডের মাধ্যমে সব জানতে চাই, সে কী বলেছে। কর্মকর্তারা তদন্তের প্রয়োজনে চাইলে, সেখানে আমরা বাদী হিসেবে থাকব। আমার ভাইকে ডনের মুখোমুখি বসিয়ে দিক। আমিও ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকব। তাহলে তো আরও ভালো।’

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন ছাড়াও আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথা শুরু থেকেই বলে আসছেন নীলা চৌধুরী। ডন ছাড়া এখনো অন্য কাউকে গ্রেপ্তার না করায়ও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, এই মামলায় এখনো ডন ছাড়া অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারল না। এটা বিশ্বাসযোগ্য কোনো কথা বলে আমার মনে হয় না। আমরা আশা করেছিলাম পরে আরও আসামি ধরা পড়বে। সেটাও হলো না। যাকে ধরা হয়েছে, তাকে রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই অসুস্থ বলে ছেড়ে দিল।’

ডনের রিমান্ড, অসুস্থতা এবং রিমান্ড শেষে তাঁর বের হওয়ার বিষয়গুলো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নীলা চৌধুরী। তাঁর ভাষায়, ‘ডনকে রিমান্ডে নেওয়া, অসুস্থতা, গতকাল রিমান্ড শেষে উৎফুল্লভাবে হেঁটে যাওয়া—সবই ফানি মনে হচ্ছে। মানুষ একটি সত্যের বিচার চায়। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ সেদিকে নজর দেবে।’

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর ডনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলেও চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।