ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের অনশন

মনিরামপুরে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

সুমন চক্রবর্তী, মনিরামপুর
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৭ বার পঠিত

যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার কথায় রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, লোকলজ্জা ও হুমকির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম বিদ্যালয়ে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। একই সঙ্গে তারা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনশন শুরু করে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন। তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙে।

পরে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে তার ছোট ছেলে এনজেল পারভেজ রিফাত বাদী হয়ে শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন।

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখা ও অনশনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত বিদ্যালয়ে যান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য শুনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের অনশন

মনিরামপুরে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার কথায় রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, লোকলজ্জা ও হুমকির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম বিদ্যালয়ে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। একই সঙ্গে তারা ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনশন শুরু করে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন। তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙে।

পরে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে তার ছোট ছেলে এনজেল পারভেজ রিফাত বাদী হয়ে শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় মামলা করেন।

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখা ও অনশনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত বিদ্যালয়ে যান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য শুনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।