কৃষি, পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় উপকূলের ২৫ নারীকে সম্মাননা
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ৬ বার পঠিত

জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা করে কৃষি, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাদ্যনিরাপত্তা ও সামাজিক নেতৃত্বে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের ২৫ জন গ্রামীণ নারীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
‘গ্রামীণ নারীর উত্থান, সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আকাশলীনা ইকোট্যুরিজম সেন্টার প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি, বন, পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন গ্রিন কোয়ালিশন যৌথভাবে এ আয়োজন করে। গ্রিন কোয়ালিশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ গাজী।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি, গ্রিন কোয়ালিশনের উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, শ্যামনগর পৌরসভা গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম, অধ্যাপক শাহানা হামিদ, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আজম মনির এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দিন সিদ্দিকসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি ও পরিবেশ গবেষক, শিক্ষক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, কৃষক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচকেরা বলেন, সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীরা স্থানীয় বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা, কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা চর্চা, জৈব ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন, পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি স্থানীয় জ্ঞান ও উদ্ভাবনী কৃষি প্রযুক্তির বিকাশ, খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নেতৃত্বের বিকাশেও তাঁরা অবদান রাখছেন।
তাঁরা আরও বলেন, প্রতিকূল জলবায়ু পরিস্থিতি ও সীমিত সম্পদের মধ্যেও উপকূলের এসব নারীর নিরলস প্রচেষ্টা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর টিকে থাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে গ্রামীণ নারীদের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা, প্রথাগত কৃষিজ্ঞান, স্থানীয় উদ্ভাবন ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনচর্চা তুলে ধরতে দিনব্যাপী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ও দেশীয় বীজ, অচাষকৃত শাক ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য, পরিবেশবান্ধব কৃষিপ্রযুক্তি, জৈব কৃষি উপকরণ, স্থানীয় ফলমূল ও শাকসবজি, ঐতিহ্যবাহী পিঠা, জ্বালানিসাশ্রয়ী চুলা এবং নারীদের তৈরি কুটির ও হস্তশিল্প প্রদর্শিত হয়।
আয়োজকেরা বলেন, গ্রামীণ নারীরা পরিবারের খাদ্য ও জীবিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, কৃষিবৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা সামাজিক পরিবর্তনেরও অগ্রণী শক্তি। তাই তাঁদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জলবায়ু-সহনশীল ও ন্যায়ভিত্তিক উপকূল গড়ে তুলতে নারীদের এই ভূমিকার মূল্যায়ন জরুরি।
সম্মাননাপ্রাপ্ত কৃষাণী মিতা রানী, সরমা রানী, পারুল রানী বৈদ্য, শেফালী বেগম ও দেলোয়ারা বেগম বলেন, বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের এই সম্মাননা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। এর মাধ্যমে উপকূলের হাজারো নারী আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবেন। একই সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বেড়ে গেল। আমরা উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্যনির্ভর মানুষের কল্যাণে এবং দেশের উন্নয়নে আরও বেশি কাজ করে যেতে চাই।

























