টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত যশোরবাসী
- আপডেট সময় : ০৮:০০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / ৩৫ বার পঠিত

টানা ভারী বর্ষণে যশোরে মাত্র ১০ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে শহর ও জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবে গেছে সড়ক, পুকুর, মাঠ ও খোলা জায়গা। ভেঙে পড়েছে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার এবং ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় আরও ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর শহরের প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ পাড়া-মহল্লার রাস্তায় পানি জমে গেছে। টিবি ক্লিনিক এলাকা, খড়কির শাহ আবদুল করিম সড়ক, ধর্মতলা রোড, আপন মোড়, চারখাম্বার মোড়, মুজিব সড়কের রেলগেট এলাকা, নাজির শংকরপুর, রূপকথা মোড়, বেজপাড়া চিরুনিকল মোড়, মিশনপাড়া, আরবপুর, বিমানবন্দর সড়ক, শংকরপুর চোপদারপাড়া এবং স্টেডিয়ামপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে মাছ ধরতেও দেখা গেছে স্থানীয়দের।
টিবি ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, “জলাবদ্ধতা এখন আমাদের নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা বারবার সমাধানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
আরেক বাসিন্দা আশরাফুল রহমানের অভিযোগ, “জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য যে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, তা কার্যকর নয়। ড্রেনের নকশা ও নির্মাণ সঠিক হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে চলে যেত।”
স্টেডিয়ামপাড়া এলাকার আব্দুল মজিদ বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই এখানে পানি জমে। এবার আপন মোড় থেকে পৌর হকার্স মার্কেট পর্যন্ত পুরো সড়ক পানির নিচে চলে গেছে।”
খড়কি এলাকার বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, “অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আবার ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলায় অধিকাংশ ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে পলি ও আবর্জনা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভারী বৃষ্টির পর পানি দ্রুত নামতে না পেরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মেদ বলেন, “পৌর প্রশাসকের নেতৃত্বে প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, বৃষ্টি কমলে দ্রুত পানি নেমে যাবে। মেডিকেল কলেজের পাশের একটি সরু ড্রেন সম্প্রসারণ করা গেলে ওই এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে। তবে স্থানীয়দের আপত্তির কারণে সেটি করা সম্ভব হয়নি।”























