ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাতের মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭ বার পঠিত

যশোরে জমি বিক্রির কথা বলে টাকা আত্মসাতের মামলায় স্বামী-স্ত্রীকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমনা পাল এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন যশোর সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামের ফারুক হাসান ও তাঁর স্ত্রী সোহেলী খাতুন। রায় ঘোষণার সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দুজনই পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের আসাদুজ্জামান চান্দুটিয়া মৌজায় ছয় শতক জমির মধ্যে চার শতক জমি কেনার জন্য সোহেলী খাতুনের সঙ্গে ছয় লাখ টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তির পর বিভিন্ন সময়ে আসাদুজ্জামানের কাছ থেকে মোট ৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা নেন সোহেলী। এ সময় জমির বায়নাপত্র ও অঙ্গীকারনামায় সোহেলী খাতুন ও তাঁর স্বামী ফারুক হাসান স্বাক্ষর করেন।

পরে আসাদুজ্জামান জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য বললে আসামিরা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ সোহেলী খাতুন ওই জমি তাঁর স্বামী ফারুক হাসানের নামে হেবা দলিল করে দেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশে উঠলে আসামিরা টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা টাকা পরিশোধ করেননি। পরে আসাদুজ্জামান টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে গালিগালাজ করে টাকা ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন তাঁরা।

এ ঘটনায় টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ফারুক হাসান ও সোহেলী খাতুনকে আসামি করে প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন আসাদুজ্জামান। মামলায় দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দণ্ডবিধির ৪১৮ ও ৪২০ ধারায় প্রত্যেককে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রী দুজনই পলাতক ছিলেন।

ট্যাগস :

যশোরে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাতের মামলায় স্বামী-স্ত্রীর কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ১১:১২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

যশোরে জমি বিক্রির কথা বলে টাকা আত্মসাতের মামলায় স্বামী-স্ত্রীকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমনা পাল এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন যশোর সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামের ফারুক হাসান ও তাঁর স্ত্রী সোহেলী খাতুন। রায় ঘোষণার সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দুজনই পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার ঘুরুলিয়া গ্রামের আসাদুজ্জামান চান্দুটিয়া মৌজায় ছয় শতক জমির মধ্যে চার শতক জমি কেনার জন্য সোহেলী খাতুনের সঙ্গে ছয় লাখ টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তির পর বিভিন্ন সময়ে আসাদুজ্জামানের কাছ থেকে মোট ৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা নেন সোহেলী। এ সময় জমির বায়নাপত্র ও অঙ্গীকারনামায় সোহেলী খাতুন ও তাঁর স্বামী ফারুক হাসান স্বাক্ষর করেন।

পরে আসাদুজ্জামান জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য বললে আসামিরা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ সোহেলী খাতুন ওই জমি তাঁর স্বামী ফারুক হাসানের নামে হেবা দলিল করে দেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশে উঠলে আসামিরা টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা টাকা পরিশোধ করেননি। পরে আসাদুজ্জামান টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে গালিগালাজ করে টাকা ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন তাঁরা।

এ ঘটনায় টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ফারুক হাসান ও সোহেলী খাতুনকে আসামি করে প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন আসাদুজ্জামান। মামলায় দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক দণ্ডবিধির ৪১৮ ও ৪২০ ধারায় প্রত্যেককে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রী দুজনই পলাতক ছিলেন।