চিনাইর বাজারে দোকান নির্মাণের আবেদন ঘিরে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ১০:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৬৭ বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর বাজারে জনসাধারণের ব্যবহৃত একটি সরকারি পাকা ঘাটলার স্থানে দোকানঘর নির্মাণের জন্য সরকারি খাস জমি বরাদ্দের আবেদনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা ঘাটলাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে সেখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন।
জানা গেছে, মাছিহাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ছায়েদুল হক গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সরকারি খাস জমি বরাদ্দের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একজন বিএনপি নেতা এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে একটি পরিত্যক্ত সিঁড়ি রয়েছে। সেখানে দোকানঘর নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, আবেদনকারী অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপিতে যোগ দেন। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বাজারে দুটি দোকানের মালিক হন এবং পরে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির অনুমোদন লাভ করেন। তবে এ বিষয়ে আবেদনকারী মো. ছায়েদুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আবেদনে নিজেকে অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে তিনি তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়িতে বসবাস করেন, ঢাকায় তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তার এক ছেলে ইউরোপে কর্মরত। এ অবস্থায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে আবেদনকারীর দাবিকে সত্য উল্লেখ করে সরকারি খাস জমি বরাদ্দের সুপারিশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
চিনাইর বাজার কমিটির সদস্যরা জানান, আবেদনের বিষয়টি সম্পর্কে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তাদের ভাষ্য, বিএনপি সরকারের সময় প্রয়াত অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ এমপির উদ্যোগে ওই স্থানে একটি পাকা ঘাটলা নির্মাণ করা হয়, যা এখনো জনসাধারণ ব্যবহার করছে। তাই সেখানে দোকান নির্মাণের সুযোগ নেই বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিনাইর-চাপুইর সড়কের পূর্ব পাশে বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত পাকা ঘাটলাটি দীর্ঘদিন ধরে মাছবাহী নৌকা ভেড়ানো, পণ্য ওঠানামা এবং ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঘাটলাটি অপসারণ করে সেখানে দোকান নির্মাণ করা হলে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম, পণ্য পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। তাই তারা সরকারি ঘাটলাটি সংরক্ষণ এবং সেখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আবেদনকারী ছায়েদুল হক এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্য না পাওয়া যাওয়ায় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।






















