ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

স্কুল ফিডিংয়ে বিষ্ঠাযুক্ত ও অর্ধসিদ্ধ ডিম প্রদানের অভিযোগ

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / ৬১ বার পঠিত

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে সরবরাহ করা খাদ্যের মান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুশীলন এনজিওর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষ্ঠাযুক্ত, অর্ধসিদ্ধ এবং ওজনে কম ডিম বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, এর আগে কাঁচা কলা ও কাঁচা ডিম সরবরাহের অভিযোগ ওঠার পর এবার নতুন করে খাদ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রীদেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিম ঠিকমতো সিদ্ধ না হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীদের ডিম বিতরণের পর তারা খোসা ছাড়াতে গিয়ে দেখতে পায় ডিমগুলো সঠিকভাবে সিদ্ধ হয়নি। বিষয়টি জানার পরপরই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় এবং ডিম বিতরণ বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে শনিবার (১৩ জুন) কৃষ্ণনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষ্ঠাযুক্ত ডিম বিতরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকিফুজ্জামান আকিফ বলেন, ডিমগুলো ভালোভাবে না ধুয়ে সিদ্ধ করায় খোসার গায়ে মুরগির বিষ্ঠা লেগে ছিল। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী ডিম নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে সুশীলন এনজিওর ঝিকরগাছা এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডিম সিদ্ধের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের অসাবধানতার কারণে কিছু ডিম কম সিদ্ধ হয়েছে। বিষ্ঠাযুক্ত ডিমের অভিযোগের বিষয়টিও তিনি শুনেছেন উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান বলেন, অর্ধসিদ্ধ ডিম সরবরাহের অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ডিম সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি পাইলটিং প্রোগ্রাম। আমরা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে রেখেছি।”

তবে একের পর এক অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। তারা বলেন, এ ধরনের ডিম বা নিম্নমানের খাদ্য গ্রহণের ফলে শিশুদের ডায়রিয়া, বমিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, এর আগে পচা কলা, কাঁচা কলা, কাঁচা ডিম এবং নিম্নমানের পাউরুটি সরবরাহের ঘটনাও ঘটেছে। তাই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মান নিশ্চিত করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগস :

ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

স্কুল ফিডিংয়ে বিষ্ঠাযুক্ত ও অর্ধসিদ্ধ ডিম প্রদানের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে সরবরাহ করা খাদ্যের মান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুশীলন এনজিওর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষ্ঠাযুক্ত, অর্ধসিদ্ধ এবং ওজনে কম ডিম বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, এর আগে কাঁচা কলা ও কাঁচা ডিম সরবরাহের অভিযোগ ওঠার পর এবার নতুন করে খাদ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রীদেয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিম ঠিকমতো সিদ্ধ না হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, প্রথম শিফটের শিক্ষার্থীদের ডিম বিতরণের পর তারা খোসা ছাড়াতে গিয়ে দেখতে পায় ডিমগুলো সঠিকভাবে সিদ্ধ হয়নি। বিষয়টি জানার পরপরই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় এবং ডিম বিতরণ বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে শনিবার (১৩ জুন) কৃষ্ণনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষ্ঠাযুক্ত ডিম বিতরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকিফুজ্জামান আকিফ বলেন, ডিমগুলো ভালোভাবে না ধুয়ে সিদ্ধ করায় খোসার গায়ে মুরগির বিষ্ঠা লেগে ছিল। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী ডিম নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে সুশীলন এনজিওর ঝিকরগাছা এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডিম সিদ্ধের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের অসাবধানতার কারণে কিছু ডিম কম সিদ্ধ হয়েছে। বিষ্ঠাযুক্ত ডিমের অভিযোগের বিষয়টিও তিনি শুনেছেন উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়ালিউর রহমান বলেন, অর্ধসিদ্ধ ডিম সরবরাহের অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ডিম সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি পাইলটিং প্রোগ্রাম। আমরা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে রেখেছি।”

তবে একের পর এক অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। তারা বলেন, এ ধরনের ডিম বা নিম্নমানের খাদ্য গ্রহণের ফলে শিশুদের ডায়রিয়া, বমিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, এর আগে পচা কলা, কাঁচা কলা, কাঁচা ডিম এবং নিম্নমানের পাউরুটি সরবরাহের ঘটনাও ঘটেছে। তাই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মান নিশ্চিত করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।