ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিতু হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত চোর সুমন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / ২৩ বার পঠিত

যশোর শহরের মোল্লাপাড়ার আলোচিত জিতু হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে পরিচিত মাঠপাড়ার সুমন ওরফে ‘চোর সুমন’কে আটক করেছে সদর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার রাতেই নিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে।

নিহত জিতুর চাচাতো ভাইয়ের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে সুমন, তার স্ত্রী, শরিফ, সুকুরন বেগম, তুষার ও রিপন পরিকল্পিতভাবে জিতুর ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় জিতুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, ঘটনার রাতে জিতু বাকিতে পাঁচ পিস ইয়াবা নিতে সুমনের মা সুকুরন বেগমের কাছে যান। তিনি বাকিতে ইয়াবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জিতু সুকুরন বেগমের গলা চেপে ধরেন এবং মারধর করেন। পরে সুমনের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করা হয়। এ সময় তাদের রক্ষায় সুমন ও আরও দুজন ঘটনাস্থলে এসে জিতুকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে জিতুর মৃত্যু হয়। তবে অভিযুক্ত পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমানুল্লাহ জানান, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে সুমনকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুমনের মা বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা ছিল। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারের সদস্যরাও অতীতে একাধিকবার তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, আটক সুমন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধেও মাদকসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে।

ট্যাগস :

জিতু হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত চোর সুমন আটক

আপডেট সময় : ০৭:২০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

যশোর শহরের মোল্লাপাড়ার আলোচিত জিতু হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে পরিচিত মাঠপাড়ার সুমন ওরফে ‘চোর সুমন’কে আটক করেছে সদর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার রাতেই নিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে।

নিহত জিতুর চাচাতো ভাইয়ের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে সুমন, তার স্ত্রী, শরিফ, সুকুরন বেগম, তুষার ও রিপন পরিকল্পিতভাবে জিতুর ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় জিতুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, ঘটনার রাতে জিতু বাকিতে পাঁচ পিস ইয়াবা নিতে সুমনের মা সুকুরন বেগমের কাছে যান। তিনি বাকিতে ইয়াবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জিতু সুকুরন বেগমের গলা চেপে ধরেন এবং মারধর করেন। পরে সুমনের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করা হয়। এ সময় তাদের রক্ষায় সুমন ও আরও দুজন ঘটনাস্থলে এসে জিতুকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে জিতুর মৃত্যু হয়। তবে অভিযুক্ত পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমানুল্লাহ জানান, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে সুমনকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুমনের মা বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা ছিল। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারের সদস্যরাও অতীতে একাধিকবার তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, আটক সুমন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধেও মাদকসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে।