‘সিক্রেট কোডে’ ঘুষ-বাণিজ্য
পাসপোর্ট অফিসের বিতর্কিত উপপরিচালক শাহজাহান কবির বদলি
- আপডেট সময় : ০২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৮ বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ-বাণিজ্য, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগে অবশেষে বদলি করা হয়েছে উপপরিচালক শাহজাহান কবিরকে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত জরুরি অফিস আদেশে তাঁকে যশোরের ‘ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারে’ বদলি করা হয়। একই আদেশে যশোরের উপপরিচালক হালিমা খাতুনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নতুন উপপরিচালক করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিস ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ ছিল। অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, সাধারণ আবেদনকারীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হলেও দালালের মাধ্যমে আসা ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ই-মেইল আইডি ও ‘সিক্রেট কোড’ ব্যবহার করে দালালদের ফাইল চিহ্নিত করা হতো। স্থানীয় কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব কোডযুক্ত ফাইলের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফাইলপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হতো।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে অফিসটির সঙ্গে ২১ জন দালালের যোগাযোগ এবং অন্তত তিনজন কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগ উঠে আসে। দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করাতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নবীনগর থেকে পাসপোর্ট করতে আসা এক আবেদনকারী অভিযোগ করেন, তাঁকে দীর্ঘ সময় ঘোরানোর পর ১০৫ নম্বর কক্ষের এক কর্মচারী ৩ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে বাধ্য হয়ে টাকা দেওয়ার পর দ্রুত তাঁর কাজ হয়ে যায়।
এ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও বক্তব্য প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপপরিচালক শাহজাহান কবিরকে বদলি করা হলো।
তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, শুধু বদলি করলেই কি থামবে ঘুষ-সিন্ডিকেট? তাঁদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।





















