সাবেক কাউন্সিলর গ্রেপ্তার
যশোরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী-এমপিসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ৮ বার পঠিত

যশোরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচ সাবেক সংসদ সদস্যসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যশোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজিবুল ইসলাম রাজীবকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাঁকে রোববার সন্ধ্যায় আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, কাজী নাবিল আহমেদ, রঞ্জিত রায়, মনিরুল ইসলাম ও ইয়াকুব আলী। এ ছাড়া সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফন্টু চাকলাদার, সাবেক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহীসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট সকালে যশোর শহরের কাজীপাড়া কাতালতলা এলাকায় পালোয়ান বাড়িগামী সড়কে সরকারবিরোধী ও নাশকতামূলক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পুলিশ বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই মিছিলের আয়োজন করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, বিদ্যুৎ সরবরাহ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ওই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা ও পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা একটি ‘জাতীয় শোক দিবস’ লেখা ব্যানার ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যানারটি উদ্ধার করে।
মামলায় আরও যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কাশিমপুর, চুড়ামনকাঠি, দেয়াড়া, আরবপুর, চাঁচড়া, রামনগর, ফতেপুর, কচুয়া, নরেন্দ্রপুর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন।
এ ছাড়া যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকার সাবেক কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় পর্যায়ের আরও কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, অ্যাডভোকেট বাবুল, রাজিবুল আলম, হাজী সুমনসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে সাবেক কাউন্সিলর রাজিবুল ইসলাম রাজীবকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।






















