হেলমেট-গ্লাভস বিতরণ, শ্রমিকদের পাশে থাকার আশ্বাস নতুন ঠিকাদারের
বেনাপোল বন্দরে নতুন ক্রেন-ইকুইপমেন্ট, বাড়ল শ্রমিকদের মজুরি
- আপডেট সময় : ০৭:১৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২১ বার পঠিত

‘শ্রমিক বাঁচলে আমরা বাঁচব, আমরা বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আধুনিক ক্রেন ও প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট যুক্ত করেছে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড। একই সঙ্গে বন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিকদের টনপ্রতি মজুরি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের মধ্যে হেলমেট ও গ্লাভসও বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের কাঁচামাল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৮৯১-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে এবং ৯২৫ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক শহীদ হোসেন।
শ্রমিকদের উদ্দেশে শহীদ হোসেন বলেন, শ্রমিক বাঁচলে আমরা বাঁচব, আর আমরা বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে এই বিশ্বাস নিয়েই আমি কাজ করতে চাই। আপনারা শুধু শ্রমিক নন, আপনারাই এই বন্দরের কাজের মূল চালিকাশক্তি।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে ও বিপদে-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করবেন তিনি। কোনো সমস্যা হলে সরাসরি তাকে জানানোর জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
শহীদ হোসেন আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ঠিকাদারি কাজ করা নয়, বেনাপোল স্থলবন্দরের কাজের গতি আরও বাড়ানো। এ জন্য নতুন ও আধুনিক ক্রেন এবং প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে।
শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি শ্রমিকদের সঙ্গে মাসে অন্তত একবার বসে তাদের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবেন।
মজুরি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পেয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। তারা জানান, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হেলমেট ও গ্লাভস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ঠিকাদার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ায় তারা আশাবাদী।
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫-এর সভাপতি মো. তবিবুর রহমান তবি বলেন, শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি জানিয়ে আসছেন। নতুন ঠিকাদার টনপ্রতি মজুরি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করেছেন এবং নিরাপত্তার জন্য হেলমেট ও গ্লাভস দিয়েছেন। এটি শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ।
৯২৫ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। টনপ্রতি মজুরি ১৬ টাকা থেকে ২০ টাকা হওয়ায় শ্রমিকরা উপকৃত হবেন। বন্দরে কাজের গতি বাড়ানো এবং শ্রমিকদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সাবেক লেবার সর্দার কাশেম আলী বলেন, বিগত ৫০ বছরেও শ্রমিকদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ খুব একটা দেখিনি। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার জন্য হেলমেট ও গ্লাভস দেওয়ার বিষয়টি অবশ্যই প্রশংসনীয়।
তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ে ভূমিকা রাখায় ইউনিয়ন নেতাদের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. হান্নানসহ বন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতা, সহকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৮৯১-এর সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, ৯২৫-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ ও জিয়াউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইদ্রিস আলী ডাক্তার, দপ্তর সম্পাদক আবুল কাশেম, প্রচার সম্পাদক ওমর ফারুক, বন্দর বিষয়ক সম্পাদক আব্বাস আলী, কোষাধ্যক্ষ সবুজ হোসেন, সদস্য কামরুজ্জামান ও জামির হোসেন, শ্রমিক নেতা হান্নানসহ ইউনিয়ন-৯২৫-এর অন্যান্য নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ আরও দ্রুত ও গতিশীল হবে।






















