ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর ভূঁইয়ার, সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩৮ বার পঠিত

চট্টগ্রাম মহানগরীর অসহনীয় যানজট নিরসন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২৫ দফা দাবি নিয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)-এর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়ার কাছে স্মারকলিপিটি তুলে দেন ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

নাগরিক ফোরামের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়া বলেন, নগরীর যানজট নিরসনে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, কালো ধোঁয়া এবং হাইড্রোলিক হর্নের কারণে নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে আসিনি। চট্টগ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে যানজটের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শুধু সাময়িক অভিযান নয়, ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের মতো মূল কারণ চিহ্নিত করে এলাকাভিত্তিক স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কোন সময়ে কোথায় কেন যানজট হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইতিহাস গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে নগর পরিকল্পনা করতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি।

ফোরাম নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা মূল সড়কে নামতে বাধ্য হন। এতে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

মহানগর সভাপতি হামিদ হোসাইন বলেন, যানজট মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন এগিয়ে এলে নাগরিক ফোরাম সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

মহানগর সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, অভিযানের ধারাবাহিকতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রিয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজার, আগ্রাবাদ ও বহদ্দারহাটসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য ‘গ্রিন করিডর’ চালু করা প্রয়োজন।

নাগরিক ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, যানজটপ্রবণ এলাকাকে বিশেষ ট্রাফিক জোন ঘোষণা, পিক আওয়ারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং বন্ধ, অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন অপসারণ।

এ ছাড়া রিয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, চকবাজার, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও অক্সিজেনে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা, চাকতাই-খাতুনগঞ্জে ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং জরুরি যানবাহনের দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সিএমপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও বিআরটিএর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব কামাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি হামিদ হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া।

এ ছাড়া ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে পুলিশ লাইন ক্যান্টিনে কার্যকরী সভাপতি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়াতে নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ট্যাগস :

নাগরিক উদ্যোগকে স্বাগত কবীর ভূঁইয়ার, সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরীর অসহনীয় যানজট নিরসন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২৫ দফা দাবি নিয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)-এর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়ার কাছে স্মারকলিপিটি তুলে দেন ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

নাগরিক ফোরামের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়া বলেন, নগরীর যানজট নিরসনে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, কালো ধোঁয়া এবং হাইড্রোলিক হর্নের কারণে নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব কামাল উদ্দিন বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে আসিনি। চট্টগ্রামবাসী দীর্ঘদিন ধরে যানজটের দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শুধু সাময়িক অভিযান নয়, ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের মতো মূল কারণ চিহ্নিত করে এলাকাভিত্তিক স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কোন সময়ে কোথায় কেন যানজট হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ইতিহাস গবেষক সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে নগর পরিকল্পনা করতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি।

ফোরাম নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা মূল সড়কে নামতে বাধ্য হন। এতে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

মহানগর সভাপতি হামিদ হোসাইন বলেন, যানজট মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন এগিয়ে এলে নাগরিক ফোরাম সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

মহানগর সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, অভিযানের ধারাবাহিকতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রিয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজার, আগ্রাবাদ ও বহদ্দারহাটসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

লায়ন জিল্লুর রহমান শাকিল বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য ‘গ্রিন করিডর’ চালু করা প্রয়োজন।

নাগরিক ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, যানজটপ্রবণ এলাকাকে বিশেষ ট্রাফিক জোন ঘোষণা, পিক আওয়ারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং বন্ধ, অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন অপসারণ।

এ ছাড়া রিয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, চকবাজার, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও অক্সিজেনে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা, চাকতাই-খাতুনগঞ্জে ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং জরুরি যানবাহনের দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সিএমপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও বিআরটিএর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব কামাল উদ্দিন। চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি হামিদ হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া।

এ ছাড়া ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে পুলিশ লাইন ক্যান্টিনে কার্যকরী সভাপতি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়াতে নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।