হাসপাতালে বিক্ষোভ
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / ৯১ বার পঠিত

যশোর শহরের পুলেরহাট এলাকায় অবস্থিত আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এ ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত ইমরান হোসেন (৩৫) শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গাজীপাড়া এলাকার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ইমরানকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার পর তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আগেই তাকে একাধিক ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশন প্রয়োগের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
নিহতের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন বলেন, “রোগীর প্রধান সমস্যা ছিল শ্বাসকষ্ট। আমরা আশা করেছিলাম দ্রুত অক্সিজেন দেওয়া হবে। কিন্তু একের পর এক ইনজেকশন দেওয়া হয়। প্রথম ইনজেকশনের পর থেকেই সে অস্বস্তি অনুভব করছিল। দ্বিতীয় ইনজেকশনের পর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে। তৃতীয় ইনজেকশনের কিছুক্ষণ পর সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।”
স্বজনদের দাবি, ইমরানের অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকরা তা গুরুত্ব দেননি। পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তখনই তার মৃত্যু হয়েছিল, কিন্তু বিষয়টি আড়াল করতে কিছু সময় আইসিইউতে রেখে পরে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
নিহতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই স্যালাইনের সঙ্গে এবং ক্যানুলার মাধ্যমে একাধিক ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। এর পরপরই তার ছেলে চিৎকার করতে শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যান।
ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় শত শত মানুষ হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা চিকিৎসা অবহেলার বিচার এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের উপস্থিত করে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং একটি পক্ষ ভাঙচুরেরও চেষ্টা চালায়। ক্ষুব্ধ ইমরানের মা হাসপাতালের দিকে জুতা নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোতয়ালী থানার এসআই জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে যায়। পুলিশ উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন বলেন, আমাদের কোনো ভুল নেই। নিয়ম অনুযায়ী ইমার্জেন্সিতে রোগীকে দেখা হয়েছে। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও তাকে দেখেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
যশোর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইমরানের সংসারে ১৭ মাস বয়সী একমাত্র ছেলে এলহাম রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।





















