ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কুয়াদায় মামলা চলাকালীন জমিতে ফের ঘর নির্মাণ কাজের অভিযোগ

বিএম মিলন, কুয়াদা
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৬ বার পঠিত

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কুয়াদা বাজারের জামজামি মোড়ে শহীদ লুৎফর রহমান খোকনের স্মৃতিফলকের পাশের মামলাধীন ৫০ শতক জমিতে ফের ইটের গাঁথুনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার নির্মাণকাজ দেখতে পেয়ে জমির মালিকানা দাবি করা কাকলি ঘোষ নির্মাণাধীন ইটের গাঁথুনি ভেঙে দেন। আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও কওছার আলী বিশ্বাসের পক্ষ থেকে ওই জমিতে ফের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

জানা গেছে, জমিটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমিটির খতিয়ান নম্বর ৩৩৬ এবং দাগ নম্বর ৩৭৪। এ বিষয়ে যশোর জজ কোর্টে ৩৯/১০ ও ৪০/১০ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে।

জানা যায়, শনিবার নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে কুয়াদা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা উভয় পক্ষকে বাজারের পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানান এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার পরামর্শ দেন।

স্থানীয়রা জানান, বিরোধপূর্ণ জায়গার পাশে এক শতক সরকারি জমি রয়েছে। ওই জায়গাতেই একসময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে স্মৃতিফলকটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে। এটি দেখভাল ও সংরক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ওই জমি ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলাধীন জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ করে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই জমিতে নির্মাণাধীন ইটের গাঁথুনি কাকলি ঘোষ হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন। তখনও তিনি দাবি করেন, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সেখানে নির্মাণকাজ করা হচ্ছিল।

কাকলি ঘোষ বলেন, এই ৫০ শতক জমির মালিক আমি এবং জমির খাজনা ও আমি পরিশোধ করে আসছি। আইনকে আমি শ্রদ্ধা করি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আবারও সেখানে ইটের গাঁথুনি নির্মাণ করা হচ্ছিল তাই আমি এ বিরোধের দ্রুত সমাধান চাই। তবে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিতে কোনো নির্মাণকাজ না করার দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে কওছার আলী বিশ্বাসের দাবি, ওই স্থানে একসময় একজন মুক্তিযোদ্ধার কবর ছিল। পরে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে তিনি জায়গাটি অভিনব কায়দায ভোগদখলে রেখেছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। সরকারি জমি ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকটি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :

কুয়াদায় মামলা চলাকালীন জমিতে ফের ঘর নির্মাণ কাজের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:১৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কুয়াদা বাজারের জামজামি মোড়ে শহীদ লুৎফর রহমান খোকনের স্মৃতিফলকের পাশের মামলাধীন ৫০ শতক জমিতে ফের ইটের গাঁথুনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার নির্মাণকাজ দেখতে পেয়ে জমির মালিকানা দাবি করা কাকলি ঘোষ নির্মাণাধীন ইটের গাঁথুনি ভেঙে দেন। আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও কওছার আলী বিশ্বাসের পক্ষ থেকে ওই জমিতে ফের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।

জানা গেছে, জমিটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমিটির খতিয়ান নম্বর ৩৩৬ এবং দাগ নম্বর ৩৭৪। এ বিষয়ে যশোর জজ কোর্টে ৩৯/১০ ও ৪০/১০ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে।

জানা যায়, শনিবার নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে কুয়াদা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা উভয় পক্ষকে বাজারের পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানান এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার পরামর্শ দেন।

স্থানীয়রা জানান, বিরোধপূর্ণ জায়গার পাশে এক শতক সরকারি জমি রয়েছে। ওই জায়গাতেই একসময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে স্মৃতিফলকটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে। এটি দেখভাল ও সংরক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি ওই জমি ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলাধীন জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ করে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই জমিতে নির্মাণাধীন ইটের গাঁথুনি কাকলি ঘোষ হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন। তখনও তিনি দাবি করেন, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সেখানে নির্মাণকাজ করা হচ্ছিল।

কাকলি ঘোষ বলেন, এই ৫০ শতক জমির মালিক আমি এবং জমির খাজনা ও আমি পরিশোধ করে আসছি। আইনকে আমি শ্রদ্ধা করি, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আবারও সেখানে ইটের গাঁথুনি নির্মাণ করা হচ্ছিল তাই আমি এ বিরোধের দ্রুত সমাধান চাই। তবে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমিতে কোনো নির্মাণকাজ না করার দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে কওছার আলী বিশ্বাসের দাবি, ওই স্থানে একসময় একজন মুক্তিযোদ্ধার কবর ছিল। পরে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে তিনি জায়গাটি অভিনব কায়দায ভোগদখলে রেখেছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। সরকারি জমি ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকটি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।