ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুমিল্লায় ধানক্ষেত থেকে যশোরের নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার Logo বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া’র বিরুদ্ধে এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পেটানোর অভিযোগ Logo অভিযোগকারীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলেন আনসার কর্মকর্তা রউফ Logo তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিত্যক্ত মালামাল বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন Logo যশোরে শেষ হলো ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ Logo রামনগর ইউনিয়নের ৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় গ্রাম পুলিশ Logo নড়াইলের পেড়লীতে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা Logo কুয়াদায় মাদকসহ দুই কারবারী আটক Logo শার্শায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার Logo শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাথরঘাটায় প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা
আধাঘন্টা পর মিললো মুক্তি

খুলনা সদরের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময়কে কার্যালয় থেকে অপহরণ

শেখ মাহতাব হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৩০ বার পঠিত

খুলনা নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যলয় থেকে দিনে দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে অপহরণ করে তুলে নেওয়ার প্রায় আধাঘন্টা পর ছেড়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনা সদর থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দুরে এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই কর্মকর্তা থানায় কোন অভিযোগ দেননি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার দুপরে কেডি ঘোষ রোডস্থ সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এসময়ে কয়েকজন মুখোশধারী (মুখে কাপড় বাধা) সন্ত্রাসী অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে টেনে হেচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। প্রশদে একটি মোটরসাইকেলে পাশের পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোডে নিয়ে একটি রিক্সায় উঠিয়ে জেলখানা ঘাট এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাব রেজিস্ট্রারের কার্যলয়ে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় একটি রিক্সায় তন্ময় কুমার মন্ডলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই রিক্সায় বসা মুখে কাপড় বাধা একজন যুবক তার পেটে পিস্তল তাক করে রেখেছেন। ওই রিক্সার আগে একটি মোটর সাইকেল এবং রিক্সার পেছনে একটি মোটর সাইকেল গার্ড দিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া মুখোশধারী এক যুবককে রিক্সার পেছন পেছন দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। রিক্সাটি পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোড দিয়ে জেলখানা ঘাট এলাকার দিকে চলে যায়। তবে কি কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছে তা জানা যায়নি।

এদিকে অপহরণ ঘটনার পর পর জেলা ও সদর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যলয়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা, দলিল লেখক ও উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখতে থাকেন। অপহরণ ঘটনার ঠিক আধাঘন্টা পর অপহরণ হওয়া সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল একাই তার কার্যালয়ে ফিরে আসেন।

এসময়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন। আমি কার্যালয় থেকে বাইরে বের হচ্ছিলাম। তখন তারা একটি সমস্যার কথা বলে। তাই কথা বলতে গিয়েছিলাম। তবে তারা কারা জানিনা। তারা আমাকে রিক্সায় করে নদীর ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে কিছু কথা বলে চলে আসি। আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

তিনি যখন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন, তখন তার মধ্যে আতংক ছিল। এলোমেলো কথা বলছিলেন।

জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত খুলনা সদর থানার এস আই জামাল উদ্দিন বলেন, দুপুর ৩টা ১০ মিনিটের সময় সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। সিসি টিভিতে দেখি তাকে একটি রিক্সায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর আমরা থাকতেই তিনি ফিরে আসেন। তিনি কোন অভিযোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে সাব-রেজিস্ট্রারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে খুলনা নিউমার্কেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অফিসপাড়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযোগ দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার পর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল বিকাল ৫টা পর্যন্ত তার কার্যালয়ে ছিলেন। এরপর তার পরিবার এসে বাসায় নিয়ে যান।

ট্যাগস :

আধাঘন্টা পর মিললো মুক্তি

খুলনা সদরের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময়কে কার্যালয় থেকে অপহরণ

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

খুলনা নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সদর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যলয় থেকে দিনে দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে অপহরণ করে তুলে নেওয়ার প্রায় আধাঘন্টা পর ছেড়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে খুলনা সদর থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দুরে এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই কর্মকর্তা থানায় কোন অভিযোগ দেননি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার দুপরে কেডি ঘোষ রোডস্থ সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এসময়ে কয়েকজন মুখোশধারী (মুখে কাপড় বাধা) সন্ত্রাসী অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে টেনে হেচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। প্রশদে একটি মোটরসাইকেলে পাশের পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোডে নিয়ে একটি রিক্সায় উঠিয়ে জেলখানা ঘাট এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাব রেজিস্ট্রারের কার্যলয়ে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় একটি রিক্সায় তন্ময় কুমার মন্ডলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই রিক্সায় বসা মুখে কাপড় বাধা একজন যুবক তার পেটে পিস্তল তাক করে রেখেছেন। ওই রিক্সার আগে একটি মোটর সাইকেল এবং রিক্সার পেছনে একটি মোটর সাইকেল গার্ড দিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া মুখোশধারী এক যুবককে রিক্সার পেছন পেছন দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। রিক্সাটি পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোড দিয়ে জেলখানা ঘাট এলাকার দিকে চলে যায়। তবে কি কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছে তা জানা যায়নি।

এদিকে অপহরণ ঘটনার পর পর জেলা ও সদর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যলয়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা, দলিল লেখক ও উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সেখানে ছুটে গিয়ে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখতে থাকেন। অপহরণ ঘটনার ঠিক আধাঘন্টা পর অপহরণ হওয়া সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল একাই তার কার্যালয়ে ফিরে আসেন।

এসময়ে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন। আমি কার্যালয় থেকে বাইরে বের হচ্ছিলাম। তখন তারা একটি সমস্যার কথা বলে। তাই কথা বলতে গিয়েছিলাম। তবে তারা কারা জানিনা। তারা আমাকে রিক্সায় করে নদীর ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে কিছু কথা বলে চলে আসি। আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

তিনি যখন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন, তখন তার মধ্যে আতংক ছিল। এলোমেলো কথা বলছিলেন।

জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত খুলনা সদর থানার এস আই জামাল উদ্দিন বলেন, দুপুর ৩টা ১০ মিনিটের সময় সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। সিসি টিভিতে দেখি তাকে একটি রিক্সায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর আমরা থাকতেই তিনি ফিরে আসেন। তিনি কোন অভিযোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে সাব-রেজিস্ট্রারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে খুলনা নিউমার্কেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অফিসপাড়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযোগ দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার পর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল বিকাল ৫টা পর্যন্ত তার কার্যালয়ে ছিলেন। এরপর তার পরিবার এসে বাসায় নিয়ে যান।