ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডুমুরিয়ার টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আতঙ্কে শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

নতুন ভবন তালাবদ্ধ, পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • / ৪৩ বার পঠিত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ১৮ নম্বর টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠগ্রহণ করছে একটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ভবনে। যেকোনো সময় ছাদের পলেস্তারা বা ভবনের অংশবিশেষ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অথচ বিদ্যালয়ের পাশেই নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেটি এখনো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে নিয়মিত। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে, ফলে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাসে অংশ নিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ বেশ কিছুদিন আগে সম্পন্ন হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় সেটি ব্যবহার উপযোগী করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রঞ্জিদা দাস বলেন, “আমরা প্রতিদিন এক বুক আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে আসি। সবসময় ভয় থাকে, এই বুঝি ছাদের পলেস্তারা খসে কোনো শিশুর মাথায় পড়ল। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। নতুন ভবনটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত, কিন্তু চাবি না পাওয়ায় সেখানে যেতে পারছি না। শিশুদের এই ঝুঁকির মধ্যে রাখা আর সম্ভব নয়। দ্রুত নতুন ভবনে পাঠদান শুরুর অনুমতি চাই।”

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম গাজী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। নতুন ভবনটি কেন এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। যেকোনো প্রশাসনিক বা আনুষ্ঠানিক জটিলতা দ্রুত সমাধান করে নতুন ভবনে ক্লাস চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, “পরিত্যক্ত ভবনে শিশুদের ক্লাস নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হয়ে থাকলে শুধু উদ্বোধনের জন্য সেটি আটকে রাখা উচিত নয়। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন ভবনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে পারে।”

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল আলম বলেন, “উদ্বোধনের অপেক্ষায় নতুন ভবন পড়ে থাকবে আর শিশুরা ঝুঁকিতে থাকবে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।”

এদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও খর্নিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে অবিলম্বে নতুন ভবনটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া উচিত। তারা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিলম্ব হলে যেকোনো সময় অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পরে সম্পন্ন করে হলেও দ্রুত নতুন ভবনে পাঠদান শুরু করা হোক। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে স্বাভাবিক ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

ডুমুরিয়ার টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আতঙ্কে শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

নতুন ভবন তালাবদ্ধ, পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

আপডেট সময় : ০৬:০৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ১৮ নম্বর টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠগ্রহণ করছে একটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ভবনে। যেকোনো সময় ছাদের পলেস্তারা বা ভবনের অংশবিশেষ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অথচ বিদ্যালয়ের পাশেই নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেটি এখনো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে নিয়মিত। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে, ফলে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাসে অংশ নিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ বেশ কিছুদিন আগে সম্পন্ন হলেও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় সেটি ব্যবহার উপযোগী করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রঞ্জিদা দাস বলেন, “আমরা প্রতিদিন এক বুক আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে আসি। সবসময় ভয় থাকে, এই বুঝি ছাদের পলেস্তারা খসে কোনো শিশুর মাথায় পড়ল। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। নতুন ভবনটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত, কিন্তু চাবি না পাওয়ায় সেখানে যেতে পারছি না। শিশুদের এই ঝুঁকির মধ্যে রাখা আর সম্ভব নয়। দ্রুত নতুন ভবনে পাঠদান শুরুর অনুমতি চাই।”

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম গাজী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। নতুন ভবনটি কেন এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। যেকোনো প্রশাসনিক বা আনুষ্ঠানিক জটিলতা দ্রুত সমাধান করে নতুন ভবনে ক্লাস চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, “পরিত্যক্ত ভবনে শিশুদের ক্লাস নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হয়ে থাকলে শুধু উদ্বোধনের জন্য সেটি আটকে রাখা উচিত নয়। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন ভবনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে পারে।”

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল আলম বলেন, “উদ্বোধনের অপেক্ষায় নতুন ভবন পড়ে থাকবে আর শিশুরা ঝুঁকিতে থাকবে—এটা গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।”

এদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও খর্নিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে অবিলম্বে নতুন ভবনটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া উচিত। তারা আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিলম্ব হলে যেকোনো সময় অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা পরে সম্পন্ন করে হলেও দ্রুত নতুন ভবনে পাঠদান শুরু করা হোক। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে স্বাভাবিক ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।