ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

প্রতারণার অভিযোগে আইনজীবি জুয়েলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০ বার পঠিত

যশোরে কথিত অ্যাডভোকেট জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর সদর উপজেলার ইছালী গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে সাইফুজ্জামান সজিব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাইফুজ্জামান সজিব অভিযোগ করেন, চাকরির সুবাদে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থানকালে তিনি বিয়ে করেন। পরবর্তীতে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে জুয়েল মুন্সী তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সাইফুজ্জামানের দাবি, জুয়েল মুন্সী নিজেকে ঈশ্বরদীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিত দাবি করে কাবিননামায় উল্লেখিত চার লাখ টাকা এবং খোরপোষ বাবদ ৩০ হাজার টাকা দিলে সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে তারা ধানি জমি বন্ধক রেখে মোট চার লাখ ৩০ হাজার টাকা জুয়েল মুন্সীকে দেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে জুয়েল মুন্সী তাকে ঈশ্বরদীতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই একটি তালাকনামা তার হাতে দেন। পরবর্তীতে ওই তালাকনামা স্ত্রীর ঠিকানায় পাঠানো হলে স্ত্রীপক্ষ সেটিকে জাল বলে দাবি করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা এবং চাকরির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয় বলে জানান সাইফুজ্জামান।

পরিস্থিতি সমাধানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা নেন বলেও জানান তিনি। তাদের মধ্যে ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফ বিশ্বাস, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সাইফুজ্জামান বলেন, স্থানীয় ব্যক্তিরা জুয়েল মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের নিজ বাসায় যেতে বলেন। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও জুয়েল মুন্সী টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তালাকনামাটি সঠিক বলে দাবি করেন। পরে কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা সেখান থেকে চলে আসেন।

সাইফুজ্জামানের অভিযোগ, এর পরিপ্রেক্ষিতে জুয়েল মুন্সী তার বাবা গোলাম মোস্তফা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছাত্তার ও আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে চাঁদাবাজির মামলা করেন। তবে তাদের দাবি, চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে নয়, বিরোধ মীমাংসার জন্যই তারা জুয়েল মুন্সীর বাসায় গিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে এলাকায় আরও কয়েকজন ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজাপুরের লিটন, ইছালী কারিগরপাড়ার গফুর, জয়নগর গ্রামের হানিফ ও পাঁচবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের নাম উল্লেখ করেন সাইফুজ্জামান।

তিনি জানান, তার বাবা জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা এবং কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করেছেন। চাকরি রক্ষা ও মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তার বাবা অবশিষ্ট জমি বিক্রি করে পুনরায় চার লাখ টাকা তার স্ত্রীকে দেন। পরে আইনগতভাবে তালাক সম্পন্ন করা হয় বলেও জানান তিনি।

সাইফুজ্জামান বলেন, জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণ রয়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জুয়েল মুন্সীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

প্রতারণার অভিযোগে আইনজীবি জুয়েলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

যশোরে কথিত অ্যাডভোকেট জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর সদর উপজেলার ইছালী গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে সাইফুজ্জামান সজিব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাইফুজ্জামান সজিব অভিযোগ করেন, চাকরির সুবাদে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থানকালে তিনি বিয়ে করেন। পরবর্তীতে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে জুয়েল মুন্সী তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সাইফুজ্জামানের দাবি, জুয়েল মুন্সী নিজেকে ঈশ্বরদীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচিত দাবি করে কাবিননামায় উল্লেখিত চার লাখ টাকা এবং খোরপোষ বাবদ ৩০ হাজার টাকা দিলে সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে তারা ধানি জমি বন্ধক রেখে মোট চার লাখ ৩০ হাজার টাকা জুয়েল মুন্সীকে দেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে জুয়েল মুন্সী তাকে ঈশ্বরদীতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই একটি তালাকনামা তার হাতে দেন। পরবর্তীতে ওই তালাকনামা স্ত্রীর ঠিকানায় পাঠানো হলে স্ত্রীপক্ষ সেটিকে জাল বলে দাবি করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা এবং চাকরির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয় বলে জানান সাইফুজ্জামান।

পরিস্থিতি সমাধানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা নেন বলেও জানান তিনি। তাদের মধ্যে ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফ বিশ্বাস, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সাইফুজ্জামান বলেন, স্থানীয় ব্যক্তিরা জুয়েল মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের নিজ বাসায় যেতে বলেন। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও জুয়েল মুন্সী টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তালাকনামাটি সঠিক বলে দাবি করেন। পরে কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা সেখান থেকে চলে আসেন।

সাইফুজ্জামানের অভিযোগ, এর পরিপ্রেক্ষিতে জুয়েল মুন্সী তার বাবা গোলাম মোস্তফা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছাত্তার ও আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে চাঁদাবাজির মামলা করেন। তবে তাদের দাবি, চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে নয়, বিরোধ মীমাংসার জন্যই তারা জুয়েল মুন্সীর বাসায় গিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে এলাকায় আরও কয়েকজন ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজাপুরের লিটন, ইছালী কারিগরপাড়ার গফুর, জয়নগর গ্রামের হানিফ ও পাঁচবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের নাম উল্লেখ করেন সাইফুজ্জামান।

তিনি জানান, তার বাবা জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা এবং কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করেছেন। চাকরি রক্ষা ও মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তার বাবা অবশিষ্ট জমি বিক্রি করে পুনরায় চার লাখ টাকা তার স্ত্রীকে দেন। পরে আইনগতভাবে তালাক সম্পন্ন করা হয় বলেও জানান তিনি।

সাইফুজ্জামান বলেন, জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের পক্ষে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণ রয়েছে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জুয়েল মুন্সীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।