ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে যবিপ্রবির ১১ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১০ বার পঠিত

গবেষণাপত্রে লেখকত্ব, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, তথ্যসূত্র (রেফারেন্স), চিত্রের অসঙ্গতি, গবেষণার ফলাফল ও উপসংহারের নির্ভরযোগ্যতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের নাম রয়েছে সাতটি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে।

আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী Retraction Watch Database-এ সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তালিকা অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর লেখকদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষকরা রয়েছেন।

ডাটাবেইজের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেনের নাম সাতটি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে রয়েছে। এর মধ্যে Rapid hydrothermal synthesis of mesoporous NiS2 and NiSe2 nanostructures for wastewater treatment শীর্ষক গবেষণাপত্রটি অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ব্যবহার এবং প্রত্যাহার-সংক্রান্ত সম্পাদকীয় যোগাযোগের জবাব না দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আরও ছয়টি প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রেও তার নাম রয়েছে।

এ ছাড়া The experimental significance of isorhamnetin as an effective therapeutic option for cancer: A comprehensive analysis শীর্ষক গবেষণাপত্রটি অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র, সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় এবং গবেষণায় লেখকদের অবদানের ব্যাখ্যা ও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই গবেষণাপত্রে যবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসানের নামও রয়েছে। একই শিক্ষকের আরেকটি গবেষণাপত্র Advanced implications of nanotechnology in disease control and environmental perspectives–ও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরোয়ার ই মাহফুজ এবং নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক অঞ্জন কুমার রায়ের নামও একটি করে প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করব। কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া গেলে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে সংশ্লিষ্ট জার্নাল মূল নিবন্ধের সঙ্গে একটি রিট্রাকশন নোটিশ যুক্ত করে এবং কেন গবেষণাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তার কারণ প্রকাশ করে। এসব নোটিশ আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকভুক্ত ডাটাবেইজে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে নাম থাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে যবিপ্রবির ১১ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ১০:২৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

গবেষণাপত্রে লেখকত্ব, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, তথ্যসূত্র (রেফারেন্স), চিত্রের অসঙ্গতি, গবেষণার ফলাফল ও উপসংহারের নির্ভরযোগ্যতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের নাম রয়েছে সাতটি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে।

আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী Retraction Watch Database-এ সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তালিকা অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর লেখকদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষকরা রয়েছেন।

ডাটাবেইজের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেনের নাম সাতটি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে রয়েছে। এর মধ্যে Rapid hydrothermal synthesis of mesoporous NiS2 and NiSe2 nanostructures for wastewater treatment শীর্ষক গবেষণাপত্রটি অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ব্যবহার এবং প্রত্যাহার-সংক্রান্ত সম্পাদকীয় যোগাযোগের জবাব না দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আরও ছয়টি প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রেও তার নাম রয়েছে।

এ ছাড়া The experimental significance of isorhamnetin as an effective therapeutic option for cancer: A comprehensive analysis শীর্ষক গবেষণাপত্রটি অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র, সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় এবং গবেষণায় লেখকদের অবদানের ব্যাখ্যা ও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই গবেষণাপত্রে যবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসানের নামও রয়েছে। একই শিক্ষকের আরেকটি গবেষণাপত্র Advanced implications of nanotechnology in disease control and environmental perspectives–ও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরোয়ার ই মাহফুজ এবং নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক অঞ্জন কুমার রায়ের নামও একটি করে প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “বিষয়টি আমরা যাচাই-বাছাই করব। কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া গেলে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে সংশ্লিষ্ট জার্নাল মূল নিবন্ধের সঙ্গে একটি রিট্রাকশন নোটিশ যুক্ত করে এবং কেন গবেষণাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তার কারণ প্রকাশ করে। এসব নোটিশ আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকভুক্ত ডাটাবেইজে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে নাম থাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।