ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মণিরামপুরে যানজট নিরসনে স্বস্তির আড়ালে রাস্তা প্রশস্তের স্থায়ী সমাধানে ধোঁয়াশা! Logo পবিত্র মক্কা-মদিনার বরকতময় ভূমি থেকে নড়াইলবাসীর জন্য দোয়া Logo মহাজন ঘশিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতিকে সংবর্ধনা Logo মণিরামপুরে যানজট নিরসনে স্বস্তির আড়ালে রাস্তা প্রশস্তের স্থায়ী সমাধানে ধোঁয়াশা! Logo তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২৮ বছর বয়সসীমা কি যথেষ্ট! Logo অভয়নগরে ৭ রাউন্ড গুলিসহ দুই অস্ত্র উদ্ধার Logo রামপালে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার Logo মাদ্রাসার টাকা নিয়ে প্রশ্ন করায় এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত Logo মসজিদ কমিটির সভাপতির সঙ্গে বিরোধ; বাবা-ছেলের ওপর হামলা Logo রামনগরে তরুণদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করলেন রাজু আহম্মেদ

মণিরামপুরে যানজট নিরসনে স্বস্তির আড়ালে রাস্তা প্রশস্তের স্থায়ী সমাধানে ধোঁয়াশা!

এস এম তাজাম্মুল, মনিরামপুর (যশোর)
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২১ বার পঠিত

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর বাজার অংশে দীর্ঘদিনের যানজট থেকে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে। গত ১০ দিনে উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান, অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত নজরদারির ফলে বদলে গেছে বাজারের চিত্র। তবে সাময়িক এ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরলেও যানজটের স্থায়ী সমাধানে সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেনের নেতৃত্বে মণিরামপুর বাজারের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। পাবলিক লাইব্রেরির সামনের মার্কেট, রাজগঞ্জ মোড়, থানা মোড়, হাকোবা মোড়, গো-হাট মোড়, থানার বেষ্টনীসংলগ্ন মুরগিহাটা ও প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা দখল এবং অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় দুই শিফটে ১৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য বাজারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে মহাসড়ক ও সরকারি জায়গাগুলো দখলমুক্ত হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উচ্ছেদ করা বিভিন্ন স্ট্যান্ড ও ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজগঞ্জ মোড়ের মোটরসাইকেলের স্ট্যান্ডটি প্রায় ১০০ মিটার দূরে সেতুসংলগ্ন টিনশেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। থানার বেষ্টনীর মুরগিহাটা মণিরামপুর খুচরা মাছবাজারের দ্বিতীয় তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আর পাবলিক লাইব্রেরির সামনের মার্কেটের জায়গায় নতুন মার্কেট নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে আগের ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

প্রশাসনের এ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বড় একটি অংশ যানজট নিরসনে নেওয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তবে একই সঙ্গে তাদের প্রশ্ন—এই শৃঙ্খলা কতদিন স্থায়ী হবে?

স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের অনেকে মনে করেন, শুধু দখলমুক্ত করা বা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মণিরামপুরের দীর্ঘদিনের যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাদের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কের দুই পাশ সম্প্রসারণ করে মহাসড়কটি প্রশস্ত করা প্রয়োজন।

দূরপাল্লার যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স চালকেরাও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সড়কে যানজট কমায় এখন দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে। তবে সড়কের দুই পাশ আরও প্রশস্ত করা গেলে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।

ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে চলাচলকারী লিটন ট্রাভেলসের এক চালক বলেন, ঢাকা-নাভারন-সাতক্ষীরা এবং ঢাকা-মণিরামপুর-সাতক্ষীরা দুই রুটেই তারা চলাচল করেন। মণিরামপুর হয়ে সাতক্ষীরা যাওয়ার কথা শুনলেই সরু সড়ক ও যানজটের কথা চিন্তা করতে হয় বলে তিনি জানান। তার মতে, সড়কটি প্রশস্ত করা গেলে দূরপাল্লার যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সময়ে সড়ক সংস্কার হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করা হয়নি। ফলে মণিরামপুর শহরের প্রধান সড়কে যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে আছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করায় সংকীর্ণ সড়ক ও অপরিকল্পিত পার্কিংয়ের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে মণিরামপুরের সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ নিয়ে অতীতে বড় অঙ্কের প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রতিবেদকের হাতে যাচাই করা সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্ব পালনের কারণে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি না হলে ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো যানজট ফিরে আসতে পারে।

তাদের প্রশ্ন, আনসার-ভিডিপি সদস্যরা কতদিন এভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রশাসনের বর্তমান উদ্যোগ শেষ হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা থাকবে? এ কারণে সাময়িক ব্যবস্থার পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সড়ক প্রশস্তকরণ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন মণিরামপুরবাসী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যস্ততার কারণে তিনি এ প্রতিবেদককে কোনো মন্তব্য দিতে পারেননি।

ট্যাগস :

মণিরামপুরে যানজট নিরসনে স্বস্তির আড়ালে রাস্তা প্রশস্তের স্থায়ী সমাধানে ধোঁয়াশা!

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মণিরামপুর বাজার অংশে দীর্ঘদিনের যানজট থেকে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে। গত ১০ দিনে উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান, অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত নজরদারির ফলে বদলে গেছে বাজারের চিত্র। তবে সাময়িক এ ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরলেও যানজটের স্থায়ী সমাধানে সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেনের নেতৃত্বে মণিরামপুর বাজারের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। পাবলিক লাইব্রেরির সামনের মার্কেট, রাজগঞ্জ মোড়, থানা মোড়, হাকোবা মোড়, গো-হাট মোড়, থানার বেষ্টনীসংলগ্ন মুরগিহাটা ও প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা দখল এবং অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় দুই শিফটে ১৬ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য বাজারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে মহাসড়ক ও সরকারি জায়গাগুলো দখলমুক্ত হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উচ্ছেদ করা বিভিন্ন স্ট্যান্ড ও ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজগঞ্জ মোড়ের মোটরসাইকেলের স্ট্যান্ডটি প্রায় ১০০ মিটার দূরে সেতুসংলগ্ন টিনশেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। থানার বেষ্টনীর মুরগিহাটা মণিরামপুর খুচরা মাছবাজারের দ্বিতীয় তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আর পাবলিক লাইব্রেরির সামনের মার্কেটের জায়গায় নতুন মার্কেট নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে আগের ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

প্রশাসনের এ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বড় একটি অংশ যানজট নিরসনে নেওয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তবে একই সঙ্গে তাদের প্রশ্ন—এই শৃঙ্খলা কতদিন স্থায়ী হবে?

স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের অনেকে মনে করেন, শুধু দখলমুক্ত করা বা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মণিরামপুরের দীর্ঘদিনের যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাদের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কের দুই পাশ সম্প্রসারণ করে মহাসড়কটি প্রশস্ত করা প্রয়োজন।

দূরপাল্লার যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স চালকেরাও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সড়কে যানজট কমায় এখন দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যাচ্ছে। তবে সড়কের দুই পাশ আরও প্রশস্ত করা গেলে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।

ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে চলাচলকারী লিটন ট্রাভেলসের এক চালক বলেন, ঢাকা-নাভারন-সাতক্ষীরা এবং ঢাকা-মণিরামপুর-সাতক্ষীরা দুই রুটেই তারা চলাচল করেন। মণিরামপুর হয়ে সাতক্ষীরা যাওয়ার কথা শুনলেই সরু সড়ক ও যানজটের কথা চিন্তা করতে হয় বলে তিনি জানান। তার মতে, সড়কটি প্রশস্ত করা গেলে দূরপাল্লার যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সময়ে সড়ক সংস্কার হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করা হয়নি। ফলে মণিরামপুর শহরের প্রধান সড়কে যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে আছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করায় সংকীর্ণ সড়ক ও অপরিকল্পিত পার্কিংয়ের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে মণিরামপুরের সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ নিয়ে অতীতে বড় অঙ্কের প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রতিবেদকের হাতে যাচাই করা সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্ব পালনের কারণে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি না হলে ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো যানজট ফিরে আসতে পারে।

তাদের প্রশ্ন, আনসার-ভিডিপি সদস্যরা কতদিন এভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রশাসনের বর্তমান উদ্যোগ শেষ হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা থাকবে? এ কারণে সাময়িক ব্যবস্থার পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে সড়ক প্রশস্তকরণ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন মণিরামপুরবাসী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যস্ততার কারণে তিনি এ প্রতিবেদককে কোনো মন্তব্য দিতে পারেননি।