ঢাকা ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত

এস এম তাজাম্মুল, মনিরামপুর (যশোর)
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫ বার পঠিত

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে গ্রাম আদালত। ‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে গ্রাম আদালত।

প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এ উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে মামলার জট কমার পাশাপাশি দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা খরচে স্থানীয়ভাবে বিচার পাওয়ার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষও এর সুফল পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মণিরামপুরের ১৭টি ইউনিয়নে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৭১টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে উপজেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়েছে ৮৬টি মামলা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনের তদারকিতে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৬১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। গত আগস্টের শেষ পর্যন্ত ১০টি মামলা অপেক্ষমাণ বা চলমান রয়েছে। এসব মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রাম আদালতের মণিরামপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর অনুপম কুমার ঘোষ।

উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১২৭টি মামলা দায়ের হয়েছে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদে। আর সবচেয়ে কম ৪২টি মামলা হয়েছে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে। নারী-পুরুষ উভয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম ও এজলাস কক্ষের সৌন্দর্যবর্ধনে এরই মধ্যে মণিরামপুর উপজেলা প্রশংসা পেয়েছে। এ কার্যক্রমে যশোরের শ্রেষ্ঠ উপজেলা হিসেবে সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন। গত জুন মাসে গ্রাম আদালত প্রকল্পের সমন্বয়কারী ও ইউএনডিপির যৌথ প্রতিনিধি দল মণিরামপুর পরিদর্শন করে উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও এজলাস কক্ষের কাঠামোগত উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদের এজলাস কক্ষও সুসজ্জিত করা হয়েছে। শুনানির জন্য ব্যবহৃত এজলাসগুলো নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর অন্যতম কারণ লোকবল সংকট। পুরো উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম দেখাশোনার জন্য মাত্র দুজন কো-অর্ডিনেটর রয়েছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ না থাকায় কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হচ্ছে বলে জানান তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন করে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।

মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহ নিস্তার ফারুক বলেন, তাঁর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম অনেক আগে থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, একজন চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে উৎসাহিত করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে সংশ্লিষ্ট সবাই এগিয়ে এলে স্বল্প খরচে ও কম ভোগান্তিতে মানুষ দ্রুত বিচার পেতে পারেন।

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সহজ পথ ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত। সাধারণ মানুষের আইনি সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদেই গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সক্রিয় ও চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নভিত্তিক সমস্যা সমাধানে নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনায় যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নজর দিলে দেশের সাধারণ মানুষের আইনি সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত একদিন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

ট্যাগস :

মণিরামপুরে সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে গ্রাম আদালত। ‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে গ্রাম আদালত।

প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এ উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে মামলার জট কমার পাশাপাশি দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা খরচে স্থানীয়ভাবে বিচার পাওয়ার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষও এর সুফল পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মণিরামপুরের ১৭টি ইউনিয়নে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৭১টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে উপজেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়েছে ৮৬টি মামলা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনের তদারকিতে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৬১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। গত আগস্টের শেষ পর্যন্ত ১০টি মামলা অপেক্ষমাণ বা চলমান রয়েছে। এসব মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রাম আদালতের মণিরামপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর অনুপম কুমার ঘোষ।

উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১২৭টি মামলা দায়ের হয়েছে মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদে। আর সবচেয়ে কম ৪২টি মামলা হয়েছে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে। নারী-পুরুষ উভয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে আইনি সেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম ও এজলাস কক্ষের সৌন্দর্যবর্ধনে এরই মধ্যে মণিরামপুর উপজেলা প্রশংসা পেয়েছে। এ কার্যক্রমে যশোরের শ্রেষ্ঠ উপজেলা হিসেবে সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন। গত জুন মাসে গ্রাম আদালত প্রকল্পের সমন্বয়কারী ও ইউএনডিপির যৌথ প্রতিনিধি দল মণিরামপুর পরিদর্শন করে উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও এজলাস কক্ষের কাঠামোগত উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদের এজলাস কক্ষও সুসজ্জিত করা হয়েছে। শুনানির জন্য ব্যবহৃত এজলাসগুলো নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর অন্যতম কারণ লোকবল সংকট। পুরো উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম দেখাশোনার জন্য মাত্র দুজন কো-অর্ডিনেটর রয়েছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ না থাকায় কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হচ্ছে বলে জানান তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন করে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।

মণিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহ নিস্তার ফারুক বলেন, তাঁর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম অনেক আগে থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, একজন চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে উৎসাহিত করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে সংশ্লিষ্ট সবাই এগিয়ে এলে স্বল্প খরচে ও কম ভোগান্তিতে মানুষ দ্রুত বিচার পেতে পারেন।

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সহজ পথ ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত। সাধারণ মানুষের আইনি সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদেই গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সক্রিয় ও চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নভিত্তিক সমস্যা সমাধানে নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনায় যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নজর দিলে দেশের সাধারণ মানুষের আইনি সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত একদিন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।