ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০ টাকা দিয়ে কেনা দুটি মাছে আব্দুল্লাহ’র ভাগ্যবদল

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৬ বার পঠিত

মাত্র ৪০ টাকা দিয়ে কেনা দুটি রঙিন মাছ দিয়ে শখের বশে বাড়ির উঠানে শুরু করেছিলেন মাছ চাষ। সেই ছোট্ট উদ্যোগই আট বছরের নিরলস পরিশ্রম, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ে পরিণত হয়েছে লাভজনক বাণিজ্যিক খামারে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালি গ্রামের ২২ বছর বয়সী তরুণ আব্দুল্লাহ এখন বাড়ির উঠানেই গড়ে তুলেছেন রঙিন মাছের বড় পরিসরের প্রকল্প। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ২টি হ্যাচারীতে ৫৬টি হাউজ, ২২টি হাপা ও একটি পুকুর। চাষ ও প্রজনন করছেন প্রায় ২২ প্রজাতির রঙিন মাছ। উৎপাদন করছেন লক্ষাধিক মাছের পোনা।

আব্দুল্লাহ জানান, শখের বশে ৪০ টাকা দিয়ে দুটি রঙিন মাছ কিনে তিনি চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে মাছ চাষ ও প্রজননের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। নিজের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও সময়কে কাজে লাগিয়ে ছোট পরিসরের সেই উদ্যোগকে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্যিক খামারে রূপ দেন তিনি। এখন আরও বড় পরিসরে রঙিন মাছ চাষের স্বপ্ন দেখছেন।

বর্তমানে তাঁর বাড়ির উঠানজুড়ে গড়ে উঠেছে রঙিন মাছের ছোটখাটো একটি প্রকল্প। খামারে ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কইকাপ, কমেট, মিক্স গাপ্পি, ব্ল্যাক মন্টেল, ব্ল্যাক ননমন্টেল, ব্ল্যাক বেলুন মলি, হোয়াইট বেলুন মলি, রেডিয়াম হোয়াইট মলি, স্টেল, প্লাটি ও জেব্রাসহ প্রায় ২২ প্রজাতির রঙিন মাছ রয়েছে।

আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমানে তাঁর খামারে লক্ষাধিক রঙিন মাছের পোনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব মাছের চাহিদা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাছের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে কুরিয়ারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছ পাঠিয়ে দেন।

আব্দুল্লাহর এই সাফল্য এলাকার অন্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করছে। তাঁর দেখাদেখি নতুন উদ্যোক্তা মাইনুদ্দিন হাসান জুনায়েদসহ এলাকার প্রায় এক ডজন তরুণ ইতোমধ্যে রঙিন মাছের চাষ শুরু করেছেন।

উদ্যোক্তা মাইনুদ্দিন হাসান জুনায়েদ বলেন, অল্প জায়গায় পরিকল্পিতভাবে রঙিন মাছের চাষ ও প্রজনন করা সম্ভব। বাড়ির আঙিনা কাজে লাগিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নিলে তরুণদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, রঙিন মাছ চাষ অল্প জায়গাতেই করা সম্ভব এবং বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। বাড়ির আঙিনা বা অব্যবহৃত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে তরুণরা পরিকল্পিতভাবে রঙিন মাছের চাষ করলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভালো আয় করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আব্দুল্লাহ শখ থেকে শুরু করে যেভাবে রঙিন মাছের চাষকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও অন্য তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ সব সময় দেওয়া হয়ে থাকে।

মাত্র ৪০ টাকার দুটি মাছ দিয়ে শুরু করা আব্দুল্লাহর এই উদ্যোগ এখন লক্ষাধিক মাছের পোনা উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করছে, অল্প জায়গা, সীমিত পুঁজি আর নিজের আগ্রহ ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়েও গড়ে তোলা সম্ভব লাভজনক উদ্যোগ।

ট্যাগস :

৪০ টাকা দিয়ে কেনা দুটি মাছে আব্দুল্লাহ’র ভাগ্যবদল

আপডেট সময় : ১০:১৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র ৪০ টাকা দিয়ে কেনা দুটি রঙিন মাছ দিয়ে শখের বশে বাড়ির উঠানে শুরু করেছিলেন মাছ চাষ। সেই ছোট্ট উদ্যোগই আট বছরের নিরলস পরিশ্রম, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ে পরিণত হয়েছে লাভজনক বাণিজ্যিক খামারে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালি গ্রামের ২২ বছর বয়সী তরুণ আব্দুল্লাহ এখন বাড়ির উঠানেই গড়ে তুলেছেন রঙিন মাছের বড় পরিসরের প্রকল্প। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ২টি হ্যাচারীতে ৫৬টি হাউজ, ২২টি হাপা ও একটি পুকুর। চাষ ও প্রজনন করছেন প্রায় ২২ প্রজাতির রঙিন মাছ। উৎপাদন করছেন লক্ষাধিক মাছের পোনা।

আব্দুল্লাহ জানান, শখের বশে ৪০ টাকা দিয়ে দুটি রঙিন মাছ কিনে তিনি চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে মাছ চাষ ও প্রজননের প্রতি তাঁর আগ্রহ বাড়তে থাকে। নিজের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও সময়কে কাজে লাগিয়ে ছোট পরিসরের সেই উদ্যোগকে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্যিক খামারে রূপ দেন তিনি। এখন আরও বড় পরিসরে রঙিন মাছ চাষের স্বপ্ন দেখছেন।

বর্তমানে তাঁর বাড়ির উঠানজুড়ে গড়ে উঠেছে রঙিন মাছের ছোটখাটো একটি প্রকল্প। খামারে ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কইকাপ, কমেট, মিক্স গাপ্পি, ব্ল্যাক মন্টেল, ব্ল্যাক ননমন্টেল, ব্ল্যাক বেলুন মলি, হোয়াইট বেলুন মলি, রেডিয়াম হোয়াইট মলি, স্টেল, প্লাটি ও জেব্রাসহ প্রায় ২২ প্রজাতির রঙিন মাছ রয়েছে।

আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমানে তাঁর খামারে লক্ষাধিক রঙিন মাছের পোনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব মাছের চাহিদা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাছের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে কুরিয়ারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছ পাঠিয়ে দেন।

আব্দুল্লাহর এই সাফল্য এলাকার অন্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করছে। তাঁর দেখাদেখি নতুন উদ্যোক্তা মাইনুদ্দিন হাসান জুনায়েদসহ এলাকার প্রায় এক ডজন তরুণ ইতোমধ্যে রঙিন মাছের চাষ শুরু করেছেন।

উদ্যোক্তা মাইনুদ্দিন হাসান জুনায়েদ বলেন, অল্প জায়গায় পরিকল্পিতভাবে রঙিন মাছের চাষ ও প্রজনন করা সম্ভব। বাড়ির আঙিনা কাজে লাগিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নিলে তরুণদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, রঙিন মাছ চাষ অল্প জায়গাতেই করা সম্ভব এবং বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। বাড়ির আঙিনা বা অব্যবহৃত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে তরুণরা পরিকল্পিতভাবে রঙিন মাছের চাষ করলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভালো আয় করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, আব্দুল্লাহ শখ থেকে শুরু করে যেভাবে রঙিন মাছের চাষকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও অন্য তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ সব সময় দেওয়া হয়ে থাকে।

মাত্র ৪০ টাকার দুটি মাছ দিয়ে শুরু করা আব্দুল্লাহর এই উদ্যোগ এখন লক্ষাধিক মাছের পোনা উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করছে, অল্প জায়গা, সীমিত পুঁজি আর নিজের আগ্রহ ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়েও গড়ে তোলা সম্ভব লাভজনক উদ্যোগ।