ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঈদে এলো ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার

মে মাসে রেমিট্যান্সে জোয়ার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। সদ্যবিদায়ী মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে প্রায় ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের রেমিট্যান্স ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪১ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে দেশে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মাত্র আট দিনে দেশে এসেছে ৪৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ প্রেরণের কারণে মাসজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ফলে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি এবং ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীদের পরিবারে বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রবণতা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। আর মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড গড়ে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে, যার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, তখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠান ৩১৭ কোটি ডলার, যা দেশের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স প্রবাহ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদে এলো ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার

মে মাসে রেমিট্যান্সে জোয়ার

আপডেট সময় : ০৮:১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। সদ্যবিদায়ী মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে এসেছে প্রায় ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের রেমিট্যান্স ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪১ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে দেশে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গত ২৪ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মাত্র আট দিনে দেশে এসেছে ৪৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ প্রেরণের কারণে মাসজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ২৭৫ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ফলে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি এবং ঈদ উপলক্ষে প্রবাসীদের পরিবারে বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রবণতা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। আর মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড গড়ে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে, যার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, তখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা পাঠান ৩১৭ কোটি ডলার, যা দেশের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স প্রবাহ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।