ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
যশোর শিক্ষা বোর্ড সচিবের অপসারণ দাবি

যশোর এমএম কলেজের শিক্ষার্থী নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩৭ বার পঠিত

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনের অপসারণ দাবি করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে এমএম কলেজের ‘চেতনায় চিরঞ্জীব’ ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন যশোর জেলা ছাত্রদল ও এমএম কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, এমএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের (২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষ) নিয়মিত শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সেজান গত ১৬ আগস্ট সার্টিফিকেটে বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে যান। সেখানে সচিবের কক্ষে প্রবেশের পর এক শিক্ষক তাঁকে বসতে বলেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় সেজানের গলায় থাকা নেকব্যান্ড দেখে সচিব ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি সেজানের শার্টের কলার চেপে ধরে পরপর চার থেকে পাঁচটি থাপ্পড় মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান সেজান বলেন, তিনি এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘স্যার, আপনি আমাকে মারলেন? আপনি চাইলে ওয়ার্নিং দিতে পারতেন।’ তখন সচিব তাঁকে বলেন, ‘মেরেছি, তাতে কী হয়েছে?’

জাহিদ হাসান সেজান আরও বলেন, ‘আমি শুধু সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য গিয়েছিলাম। কোনো অপরাধ না করেও আমাকে অপমান ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনিক সেবা নিতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী যদি সরকারি একটি শিক্ষা বোর্ডের কার্যালয়ে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বোর্ড সচিবের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন।

সমাবেশে উপস্থিত জেলা ও কলেজ ছাত্রদলের নেতারা বলেন, একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় সংবেদনশীল ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলছে। এর মধ্যে একজন বোর্ড সচিবের বিরুদ্ধে এমন আচরণের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনকে দ্রুত অপসারণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনের বক্তব্য জানা যায়নি।

ট্যাগস :

যশোর শিক্ষা বোর্ড সচিবের অপসারণ দাবি

যশোর এমএম কলেজের শিক্ষার্থী নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

আপডেট সময় : ০৯:০৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনের অপসারণ দাবি করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে এমএম কলেজের ‘চেতনায় চিরঞ্জীব’ ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন যশোর জেলা ছাত্রদল ও এমএম কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, এমএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের (২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষ) নিয়মিত শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সেজান গত ১৬ আগস্ট সার্টিফিকেটে বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডে যান। সেখানে সচিবের কক্ষে প্রবেশের পর এক শিক্ষক তাঁকে বসতে বলেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় সেজানের গলায় থাকা নেকব্যান্ড দেখে সচিব ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি সেজানের শার্টের কলার চেপে ধরে পরপর চার থেকে পাঁচটি থাপ্পড় মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান সেজান বলেন, তিনি এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘স্যার, আপনি আমাকে মারলেন? আপনি চাইলে ওয়ার্নিং দিতে পারতেন।’ তখন সচিব তাঁকে বলেন, ‘মেরেছি, তাতে কী হয়েছে?’

জাহিদ হাসান সেজান আরও বলেন, ‘আমি শুধু সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য গিয়েছিলাম। কোনো অপরাধ না করেও আমাকে অপমান ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনিক সেবা নিতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী যদি সরকারি একটি শিক্ষা বোর্ডের কার্যালয়ে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বোর্ড সচিবের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন।

সমাবেশে উপস্থিত জেলা ও কলেজ ছাত্রদলের নেতারা বলেন, একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় সংবেদনশীল ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলছে। এর মধ্যে একজন বোর্ড সচিবের বিরুদ্ধে এমন আচরণের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনকে দ্রুত অপসারণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনের বক্তব্য জানা যায়নি।