ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শখে কালিম পাখি পালন, আলোচনায় ডুমুরিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / ৪৪ বার পঠিত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের এক মৎস্য ব্যবসায়ী শখের বশে বিলুপ্তপ্রায় ও দৃষ্টিনন্দন ‘কালিম পাখি’ পালন করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। খাঁচায় বন্দি না রেখে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে পোষ মানিয়ে বিরল এই পাখি লালন-পালনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ।

জানা গেছে, চুকনগর বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান আলী দীর্ঘদিন ধরে মাছের ব্যবসার পাশাপাশি দেশীয় ও সৌখিন পাখি পালনে আগ্রহী। প্রায় এক বছর আগে তিনি সৌখিনভাবে এক জোড়া কালিম পাখির ছানা সংগ্রহ করেন। শুরুতে পাখি দুটি বুনো স্বভাবের হলেও নিবিড় পরিচর্যা, সঠিক খাদ্য ও যত্নে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা গৃহপালিত হাঁস-মুরগির মতো পোষ মানে।

বর্তমানে পাখি দুটি চুকনগর বাজারসংলগ্ন তার খামার ও মৎস্যঘেরের আশপাশে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে ঘুরে বেড়ায়। মালিকের ডাক শুনলেই তারা কাছে চলে আসে, যা দর্শনার্থীদের কাছে বিস্ময়ের বিষয় হয়ে উঠেছে।

হাসান আলী জানান, নীল ও বেগুনি রঙের মিশেলে দৃষ্টিনন্দন কালিম পাখির পা ও ঠোঁট টকটকে লাল। এরা জলজ উদ্ভিদ, কচি ঘাস, ধানের শীষের পাশাপাশি ব্রয়লার ফিড, গম এবং ছোট মাছ বা চিংড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে। গৃহপালিত হাঁসের মতোই এদের রোগবালাই কম এবং দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।

চুকনগর বাজারে আসা দর্শনার্থীরা জানান, একসময় খুলনার বিল ডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন জলাভূমিতে প্রচুর কালিম পাখি দেখা যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং নির্বিচারে শিকারের কারণে পাখিটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এমন বিরল পাখিকে উন্মুক্ত পরিবেশে দেখতে পেয়ে তারা আনন্দিত। অনেকেই এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও কালিম পাখি পালনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

উদ্যোক্তা হাসান আলী বলেন, “শখের বশে শুরু করলেও এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের কথা ভাবছি। কালিম পাখি খুবই বুদ্ধিমান। সঠিক যত্ন নিলে সহজেই পোষ মানে। আশা করছি, শিগগিরই পাখি দুটি ডিম দেবে এবং বাচ্চা ফুটে এদের সংখ্যা বাড়বে।”

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আশরাফুল কবির বলেন, স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন মেনে বিরল প্রজাতির পাখির কৃত্রিম প্রজনন ও খামার গড়ে তোলা গেলে তা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন আয়ের সম্ভাবনাও সৃষ্টি করতে পারে।

শখে কালিম পাখি পালন, আলোচনায় ডুমুরিয়ার মৎস্য ব্যবসায়ী

আপডেট সময় : ০৯:২০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের এক মৎস্য ব্যবসায়ী শখের বশে বিলুপ্তপ্রায় ও দৃষ্টিনন্দন ‘কালিম পাখি’ পালন করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। খাঁচায় বন্দি না রেখে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে পোষ মানিয়ে বিরল এই পাখি লালন-পালনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ।

জানা গেছে, চুকনগর বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান আলী দীর্ঘদিন ধরে মাছের ব্যবসার পাশাপাশি দেশীয় ও সৌখিন পাখি পালনে আগ্রহী। প্রায় এক বছর আগে তিনি সৌখিনভাবে এক জোড়া কালিম পাখির ছানা সংগ্রহ করেন। শুরুতে পাখি দুটি বুনো স্বভাবের হলেও নিবিড় পরিচর্যা, সঠিক খাদ্য ও যত্নে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা গৃহপালিত হাঁস-মুরগির মতো পোষ মানে।

বর্তমানে পাখি দুটি চুকনগর বাজারসংলগ্ন তার খামার ও মৎস্যঘেরের আশপাশে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে ঘুরে বেড়ায়। মালিকের ডাক শুনলেই তারা কাছে চলে আসে, যা দর্শনার্থীদের কাছে বিস্ময়ের বিষয় হয়ে উঠেছে।

হাসান আলী জানান, নীল ও বেগুনি রঙের মিশেলে দৃষ্টিনন্দন কালিম পাখির পা ও ঠোঁট টকটকে লাল। এরা জলজ উদ্ভিদ, কচি ঘাস, ধানের শীষের পাশাপাশি ব্রয়লার ফিড, গম এবং ছোট মাছ বা চিংড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে। গৃহপালিত হাঁসের মতোই এদের রোগবালাই কম এবং দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।

চুকনগর বাজারে আসা দর্শনার্থীরা জানান, একসময় খুলনার বিল ডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন জলাভূমিতে প্রচুর কালিম পাখি দেখা যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং নির্বিচারে শিকারের কারণে পাখিটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এমন বিরল পাখিকে উন্মুক্ত পরিবেশে দেখতে পেয়ে তারা আনন্দিত। অনেকেই এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও কালিম পাখি পালনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

উদ্যোক্তা হাসান আলী বলেন, “শখের বশে শুরু করলেও এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের কথা ভাবছি। কালিম পাখি খুবই বুদ্ধিমান। সঠিক যত্ন নিলে সহজেই পোষ মানে। আশা করছি, শিগগিরই পাখি দুটি ডিম দেবে এবং বাচ্চা ফুটে এদের সংখ্যা বাড়বে।”

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আশরাফুল কবির বলেন, স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন মেনে বিরল প্রজাতির পাখির কৃত্রিম প্রজনন ও খামার গড়ে তোলা গেলে তা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন আয়ের সম্ভাবনাও সৃষ্টি করতে পারে।