স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন চান অংশীজনেরা
- আপডেট সময় : ১০:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / ১১ বার পঠিত

দেশে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা। তাঁরা বলেছেন, সরকার যে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে, তা সফল করতে কমিশন গঠনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
কমিশন গঠনের আগে গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক সংগঠন, আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। একই সঙ্গে কমিশনের স্বাধীনতা, কাঠামো, ক্ষমতা ও জবাবদিহির বিষয়ে অংশীজনদের আস্থা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তাঁরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ ও দৈনিক গ্রামের কাগজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা। মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) ও ডেনমার্কভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস)-এর সহযোগিতায় এবং গণমাধ্যম সংস্কারে এমআরডিআইয়ের পাঁচ বছর মেয়াদি অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বর্তমান উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীন মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
হাসিবুর রহমান সার্কুলেশন ও অডিটে অনিয়ম রোধ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। এমআরডিআইয়ের উপস্থাপনায় বলা হয়, প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা উচিত।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, জনস্বার্থে সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণের সময় এখনই। সম্পাদকদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে নিজস্ব গাইডলাইন তৈরি এবং তা অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকা দরকার। সর্বশেষ খসড়া আইনকে ভিত্তি করে কাজ শুরু করা যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া যেন অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে না থাকে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার অপব্যবহার রোধে ন্যূনতম জাতীয় মানদণ্ড তৈরি করা প্রয়োজন।
দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক ও সংলাপের সভাপতি শান্তনু ইসলাম সুমিত বলেন, কমিশন যেন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু বলেন, ভালো সাংবাদিকতার জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, নিয়মিত বেতন-ভাতা এবং সাংবাদিকদের নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।
দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন বলেন, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতামতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
দৈনিক কল্যাণ-এর সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলার সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন যশোর আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফকির শওকত, সাবেক অধ্যক্ষ শাহিন ইকবাল, দৈনিক সুবর্ণভূমির সম্পাদক আহসান কবির বাবু, সাবেক সভাপতি ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আমিনুর রহমান মামুন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান বকুল ও আকরামুজ্জামান আকরাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ, সহকারী জেলা তথ্য কর্মকর্তা এলিন সাঈদ-উর রহমান, আইইডির ব্যবস্থাপক বিথীকা সরকার এবং মহিলা পরিষদের সাবেক সভাপতি হাবিবা শেফাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত মান রক্ষায় নয়, জনস্বার্থ ও জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য কমিশনকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবমুক্ত রেখে কার্যকর স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।






















