ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাদক কারবারে সক্রিয় থাকার অভিযোগ

জামিনে বেরিয়েই ফের বেপরোয়া ইমরান

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩ বার পঠিত

যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের আমজামতলা এলাকায় জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তিনি ওই এলাকার আকিমুল ইসলামের ছেলে। এর আগে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান তিনি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ইমরানের বিরুদ্ধে চৌগাছাসহ যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মাদকসংক্রান্ত বলে জানা গেছে। তবে এসব মামলার সংখ্যা ও বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গত ৬ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমজামতলা বাজারের ইমরান মার্কেটসংলগ্ন একটি গলিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় চৌগাছা থানা পুলিশ। এ সময় ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি স্মার্টফোনসহ ইমরান হোসেন ও জুয়েল বিশ্বাসকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনূর রশিদ। এ সময় দশপাখিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) বাজিৎ মোল্লাসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানের বিরুদ্ধে আগে দুটি মাদক মামলা রয়েছে। আর জুয়েল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ইমরানের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা পুলিশের উল্লেখ করা সংখ্যার চেয়ে বেশি। তাঁদের অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর তিনি ফের এলাকায় মাদক কারবারে সক্রিয় হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, একসময় সাধারণ আর্থিক অবস্থায় থাকা ইমরানের জীবনযাত্রায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আমজামতলা বাজার এলাকায় তিনি দুইতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং দামি মোটরসাইকেলে চলাচল করেন। মাদক কারবারের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পদ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে মাদক কারবারের অভিযোগের বাইরে আর্থিক লেনদেন নিয়েও ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সুমন হোসেন নামে এক যুবক। তাঁর অভিযোগ, এক লাখ টাকার বিনিময়ে এক ভরি তিন আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ইমরানের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন তিনি। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করলেও ইমরান ওই স্বর্ণালংকার ফেরত দেননি বলে অভিযোগ সুমনের।

সুমনের আরও অভিযোগ, যশোরের সোনালী ব্যাংকের চৌগাছা শাখায় তাঁর একটি চেক চুরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় টাকা উত্তোলন সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাঁর। পরে চেক ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ইমরান তাঁর কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেছেন সুমন। পৃথক এসব ঘটনায় সুমন হোসেন বাদী হয়ে ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে দুটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোর অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চৌগাছার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার একটি বড় সমস্যা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে অনেকে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। মাদকবিরোধী অভিযানে শুধু বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার না করে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, পৃষ্ঠপোষক ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে আইনগতভাবে তথ্য যাচাই করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গত ৬ জুলাই ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ ইমরান ও জুয়েলকে আটকের ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ও জামিনের পরও যদি কেউ আবার মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে, ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা মাদক কারবার, স্বর্ণালংকার ফেরত না দেওয়া, চেক জালিয়াতির চেষ্টা ও অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

মাদক কারবারে সক্রিয় থাকার অভিযোগ

জামিনে বেরিয়েই ফের বেপরোয়া ইমরান

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের আমজামতলা এলাকায় জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তিনি ওই এলাকার আকিমুল ইসলামের ছেলে। এর আগে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান তিনি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ইমরানের বিরুদ্ধে চৌগাছাসহ যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি মাদকসংক্রান্ত বলে জানা গেছে। তবে এসব মামলার সংখ্যা ও বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গত ৬ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমজামতলা বাজারের ইমরান মার্কেটসংলগ্ন একটি গলিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় চৌগাছা থানা পুলিশ। এ সময় ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি স্মার্টফোনসহ ইমরান হোসেন ও জুয়েল বিশ্বাসকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনূর রশিদ। এ সময় দশপাখিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) বাজিৎ মোল্লাসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানের বিরুদ্ধে আগে দুটি মাদক মামলা রয়েছে। আর জুয়েল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ইমরানের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা পুলিশের উল্লেখ করা সংখ্যার চেয়ে বেশি। তাঁদের অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর তিনি ফের এলাকায় মাদক কারবারে সক্রিয় হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, একসময় সাধারণ আর্থিক অবস্থায় থাকা ইমরানের জীবনযাত্রায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আমজামতলা বাজার এলাকায় তিনি দুইতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং দামি মোটরসাইকেলে চলাচল করেন। মাদক কারবারের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পদ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে মাদক কারবারের অভিযোগের বাইরে আর্থিক লেনদেন নিয়েও ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সুমন হোসেন নামে এক যুবক। তাঁর অভিযোগ, এক লাখ টাকার বিনিময়ে এক ভরি তিন আনা ওজনের স্বর্ণালংকার ইমরানের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন তিনি। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করলেও ইমরান ওই স্বর্ণালংকার ফেরত দেননি বলে অভিযোগ সুমনের।

সুমনের আরও অভিযোগ, যশোরের সোনালী ব্যাংকের চৌগাছা শাখায় তাঁর একটি চেক চুরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় টাকা উত্তোলন সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাঁর। পরে চেক ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ইমরান তাঁর কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেছেন সুমন। পৃথক এসব ঘটনায় সুমন হোসেন বাদী হয়ে ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে দুটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। তবে আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোর অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চৌগাছার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার একটি বড় সমস্যা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে অনেকে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। মাদকবিরোধী অভিযানে শুধু বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার না করে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, পৃষ্ঠপোষক ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে আইনগতভাবে তথ্য যাচাই করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গত ৬ জুলাই ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ ইমরান ও জুয়েলকে আটকের ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ও জামিনের পরও যদি কেউ আবার মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে, ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা মাদক কারবার, স্বর্ণালংকার ফেরত না দেওয়া, চেক জালিয়াতির চেষ্টা ও অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।