ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধর ও কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ

মনিরুজ্জামান চৌধুরী
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / ৩৪ বার পঠিত

নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা এবং সরকারি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) রাতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জিসানুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। তিনি বিভিন্ন সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে অফিসের বিভিন্ন তথ্য দাবি করতেন। চাহিদামতো তথ্য না পেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজ করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, রোববার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে জিসানুর রহমান ৪-৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জেলার সুবিধাভোগীদের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন। পূর্বেই তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানানো হলে জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধর করেন। একই সঙ্গে কার্যালয়ের ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর ভাঙচুর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, “জিসানুর রহমান বেশ কিছুদিন ধরেই আমার কার্যালয়ে এসে অযথা ঝামেলা করছেন। তিনি প্রদর্শনী বরাদ্দের দাবি করেন। কিন্তু এসব বরাদ্দ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেওয়া হয়, ব্যক্তিগতভাবে আমার দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি বারবার বুঝিয়ে বলার পরও তিনি অফিসে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। সর্বশেষ তিনি আমার কার্যালয়ে এসে আমাকে মারধর ও ভাঙচুর করেছেন। তাই বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করেছি।”

তবে অভিযুক্ত জিসানুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন তথ্যের জন্য মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। বরং মৎস্য কর্মকর্তা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজ করেছেন।

জিসানুর রহমান বলেন, “আমি ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলাম। তখন মৎস্য কর্মকর্তা আমার হাত থেকে ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং আমাকে মারধর করেন। আত্মরক্ষার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কর্মকর্তার হাতের ধাক্কায় কম্পিউটার নিচে পড়ে ভেঙে যায়। পরে অফিসের কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করে এবং মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়।”

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। অপর পক্ষও ঘটনার বিষয়ে তাদের বক্তব্য দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধর ও কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা এবং সরকারি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) রাতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জিসানুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। তিনি বিভিন্ন সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে অফিসের বিভিন্ন তথ্য দাবি করতেন। চাহিদামতো তথ্য না পেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজ করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, রোববার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে জিসানুর রহমান ৪-৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জেলার সুবিধাভোগীদের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন। পূর্বেই তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানানো হলে জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধর করেন। একই সঙ্গে কার্যালয়ের ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর ভাঙচুর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, “জিসানুর রহমান বেশ কিছুদিন ধরেই আমার কার্যালয়ে এসে অযথা ঝামেলা করছেন। তিনি প্রদর্শনী বরাদ্দের দাবি করেন। কিন্তু এসব বরাদ্দ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেওয়া হয়, ব্যক্তিগতভাবে আমার দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি বারবার বুঝিয়ে বলার পরও তিনি অফিসে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। সর্বশেষ তিনি আমার কার্যালয়ে এসে আমাকে মারধর ও ভাঙচুর করেছেন। তাই বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করেছি।”

তবে অভিযুক্ত জিসানুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন তথ্যের জন্য মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি। বরং মৎস্য কর্মকর্তা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজ করেছেন।

জিসানুর রহমান বলেন, “আমি ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলাম। তখন মৎস্য কর্মকর্তা আমার হাত থেকে ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং আমাকে মারধর করেন। আত্মরক্ষার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কর্মকর্তার হাতের ধাক্কায় কম্পিউটার নিচে পড়ে ভেঙে যায়। পরে অফিসের কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করে এবং মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়।”

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। অপর পক্ষও ঘটনার বিষয়ে তাদের বক্তব্য দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।