ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
 নোংরা পানিতে ভিজছেন পথচারীরা

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ফের খানাখন্দ

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৯ বার পঠিত

সংস্কারের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আবারও ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরাও। বিশেষ করে ডুমুরিয়া উপজেলার বালিয়াখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গর্তে জমে থাকা কর্দমাক্ত পানি ছিটকে পথচারীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে বালিয়াখালী ব্রিজের পাশে প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মাহতাব হোসেন ও সরকারি চাকরিজীবী খান জাহান আলী।

ভুক্তভোগী শেখ মাহতাব হোসেন জানান, তারা ব্রিজসংলগ্ন সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস বড় একটি গর্তে পড়লে সেখানে জমে থাকা কর্দমাক্ত পানি ছিটকে তাদের শরীর ও পোশাকে লাগে। এতে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হন। তার দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; প্রতিদিনই পথচারীরা একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডুমুরিয়া অংশের বালিয়াখালী ব্রিজসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও বিটুমিন উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্ত পানিতে ভরে যাওয়ায় চালকদের গর্তের গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি গর্তের নোংরা পানি ছিটকে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বর্ষা মৌসুম এবং অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু স্থানে দ্রুত পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের সাময়িক ভোগান্তির জন্য তারা দুঃখিত। বালিয়াখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকাসহ ডুমুরিয়া অংশের গর্তগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য শনিবারই একটি কারিগরি দল পরিদর্শনে যাচ্ছে। বর্ষাকালে স্থায়ী কার্পেটিং সম্ভব না হলেও ইট-খোয়া ও কোল্ড মিক্সড ব্যবহার করে দ্রুত গর্ত ভরাট করা হবে, যাতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে। বর্ষা শেষ হলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, বারবার জোড়াতালির সংস্কারের পরিবর্তে বালিয়াখালী ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়কের টেকসই সংস্কার করা প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ট্যাগস :

 নোংরা পানিতে ভিজছেন পথচারীরা

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ফের খানাখন্দ

আপডেট সময় : ০৯:২৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

সংস্কারের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে আবারও ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরাও। বিশেষ করে ডুমুরিয়া উপজেলার বালিয়াখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গর্তে জমে থাকা কর্দমাক্ত পানি ছিটকে পথচারীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে বালিয়াখালী ব্রিজের পাশে প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মাহতাব হোসেন ও সরকারি চাকরিজীবী খান জাহান আলী।

ভুক্তভোগী শেখ মাহতাব হোসেন জানান, তারা ব্রিজসংলগ্ন সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস বড় একটি গর্তে পড়লে সেখানে জমে থাকা কর্দমাক্ত পানি ছিটকে তাদের শরীর ও পোশাকে লাগে। এতে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হন। তার দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; প্রতিদিনই পথচারীরা একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডুমুরিয়া অংশের বালিয়াখালী ব্রিজসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও বিটুমিন উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্ত পানিতে ভরে যাওয়ায় চালকদের গর্তের গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি গর্তের নোংরা পানি ছিটকে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বর্ষা মৌসুম এবং অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু স্থানে দ্রুত পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের সাময়িক ভোগান্তির জন্য তারা দুঃখিত। বালিয়াখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকাসহ ডুমুরিয়া অংশের গর্তগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য শনিবারই একটি কারিগরি দল পরিদর্শনে যাচ্ছে। বর্ষাকালে স্থায়ী কার্পেটিং সম্ভব না হলেও ইট-খোয়া ও কোল্ড মিক্সড ব্যবহার করে দ্রুত গর্ত ভরাট করা হবে, যাতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে। বর্ষা শেষ হলে পুরো ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, বারবার জোড়াতালির সংস্কারের পরিবর্তে বালিয়াখালী ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়কের টেকসই সংস্কার করা প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।