মহিমা মাকওয়ানার অনুপ্রেরণার গল্প
বস্তির মেয়ে থেকে বলিউড তারকা
- আপডেট সময় : ১১:১৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১০ বার পঠিত

মুম্বাইয়ের একটি বস্তিতে বেড়ে ওঠা এক শিশুর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল না খ্যাতি বা তারকাখ্যাতি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল মায়ের একটি অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করা। সেই শিশুই আজ বলিউড ও ওটিটির পরিচিত মুখ—অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা।
সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের নতুন ওয়েব ফিল্ম মুসাফির ক্যাফে-তে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। তবে আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, দারিদ্র্য, অপমান আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে বাবাকে হারান মহিমা। এরপর মুম্বাইয়ের একটি বস্তিতেই কেটেছে তার শৈশব। সংসারে ছিল নিত্য অভাব। অভিনয়ও তার নিজের স্বপ্ন ছিল না। বরং মায়ের অপূর্ণ ইচ্ছাকেই নিজের জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নেন তিনি।
ছোটবেলায় স্কুল শেষে প্রতিদিন বাসে চড়ে বিভিন্ন অডিশনে যেতেন মহিমা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার মা একদিন বলেছিলেন, ‘এই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে অন্তত নিজের একটা বাড়ি দেখতে চাই।’ মায়ের সেই কথাই হয়ে ওঠে তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। সংগ্রামের পথ মোটেও সহজ ছিল না। শিশুশিল্পী হিসেবে কাজের শুরুতেই তাকে নানা অপমান সহ্য করতে হয়েছে। মাত্র নয় বছর বয়সে বালিকা বধূ ধারাবাহিকের সেটে এক পরিচালক তাকে বলেছিলেন, ‘অভিনয়ই যদি না পারো, তাহলে এখানে কেন এসেছ?’ অনেকেই এমন কথায় ভেঙে পড়েন। কিন্তু মহিমা সেই অপমানকেই নিজের এগিয়ে যাওয়ার শক্তিতে পরিণত করেন।
২০১২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক সাপনে সুহানে লাড়কাপান কে-তে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ধারাবাহিকটি ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ার পর মাত্র ১৪ বছর বয়সেই নিজের উপার্জনের টাকায় মায়ের জন্য একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি কিনে দেন। মায়ের স্বপ্ন পূরণের সেই মুহূর্তকে এখনও জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন তিনি।
টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা পেলেও বড় পর্দায় নিজের জায়গা করে নেওয়া ছিল আরও কঠিন। দীর্ঘদিন তাকে শুধু ‘টিভির অভিনেত্রী’ পরিচয়ে বিভিন্ন সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। অবশেষে ২০২১ সালে সালমান খানের সঙ্গে অন্তিম সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় মহিমার। তার ভাষায়, ছবিটি মুক্তির পর অনেকের আচরণ রাতারাতি বদলে যায়। সবাই বন্ধুত্ব করতে চাইলেও, সেই সাফল্যের পেছনে থাকা এক দশকের বেশি সময়ের কঠোর পরিশ্রম খুব কম মানুষই দেখেছেন।
এরপর একে একে তেলুগু সিনেমা, ওটিটি সিরিজ শো-টাইম এবং সর্বশেষ নেটফ্লিক্সের মুসাফির ক্যাফে-তে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। গত বছর প্রথম বাড়ি কেনার ১১ বছর পর মুম্বাইয়ে নিজের দ্বিতীয় বিলাসবহুল বাড়িও কিনেছেন এই অভিনেত্রী। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই অভিনয়জগতে তার প্রায় দুই দশকের পথচলা পূর্ণ হয়েছে।
তবে সাফল্য, জনপ্রিয়তা আর কোটি টাকার সম্পদের মাঝেও একটি শূন্যতা আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেটি বাবাকে হারানোর কষ্ট।
আবেগঘন কণ্ঠে মহিমা বলেন, ‘বাবা পাশে থাকলে কেমন লাগে, আমি জানি না। বন্ধুদের তাদের বাবার সঙ্গে দেখলে বুকটা হাহাকার করে। তবে সব বাধা পেরিয়ে মাকে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছি—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’
বস্তির ছোট্ট ঘর থেকে শুরু হওয়া মহিমা মাকওয়ানার এই পথচলা তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি স্বপ্ন, ত্যাগ, অধ্যবসায় এবং মায়ের প্রতি এক সন্তানের অটুট ভালোবাসারও অনন্য উদাহরণ।




















