ঢাকা ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় আলোচিত ‘শুটার’ আরমান গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৪ বার পঠিত

খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী ও ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান আরমান হোসেন দিপুকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তিনি ‘শুটার আরমান’ নামেও পরিচিত। রোববার ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল ইসলাম। গ্রেপ্তার আরমান খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, আরমানকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ও সহযোগীদের ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, খুলনার আড়ংঘাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে আরমান সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেই একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। প্রাথমিকভাবে ওই বাহিনীতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আরমানের নেতৃত্বাধীন ‘আরমান বাহিনী’ খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় অস্ত্রের মহড়াও চালাতেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

র‌্যাবের ভাষ্য, বাহিনীটির সদস্যরা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

মেজর নাজমুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গত ১৭ জুন দৌলতপুরের একটি মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা আরমান স্বীকার করেছেন বলে র‌্যাব দাবি করছে।

র‌্যাব আরও জানায়, আরমানের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের মামুন মোল্যা হত্যা, ২০২২ সালের মারজান মুন্না হত্যা এবং চলতি বছরের ঘাউরা রাজিব ও যুবদল নেতা রাশু হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া কালা রানা ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় আরমানকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর আরমানের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

ট্যাগস :

খুলনায় আলোচিত ‘শুটার’ আরমান গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৪:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনার আলোচিত সন্ত্রাসী ও ‘আরমান বাহিনী’র প্রধান আরমান হোসেন দিপুকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তিনি ‘শুটার আরমান’ নামেও পরিচিত। রোববার ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল ইসলাম। গ্রেপ্তার আরমান খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা এলাকার বাসিন্দা মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, আরমানকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ও সহযোগীদের ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি শটগান ও ১২ রাউন্ড শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

মেজর নাজমুল ইসলাম বলেন, খুলনার আড়ংঘাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে আরমান সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেই একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। প্রাথমিকভাবে ওই বাহিনীতে ৮ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আরমানের নেতৃত্বাধীন ‘আরমান বাহিনী’ খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, আড়ংঘাটা, দিঘলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় অস্ত্রের মহড়াও চালাতেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

র‌্যাবের ভাষ্য, বাহিনীটির সদস্যরা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে চাঁদা দাবি করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

মেজর নাজমুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গত ১৭ জুন দৌলতপুরের একটি মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা আরমান স্বীকার করেছেন বলে র‌্যাব দাবি করছে।

র‌্যাব আরও জানায়, আরমানের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের মামুন মোল্যা হত্যা, ২০২২ সালের মারজান মুন্না হত্যা এবং চলতি বছরের ঘাউরা রাজিব ও যুবদল নেতা রাশু হত্যা মামলা উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া কালা রানা ও মনিরুল ইসলাম রনি হত্যা মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় আরমানকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর আরমানের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।