ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কমতে যাচ্ছে মোবাইলের কলরেট

যশোর দর্পণ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২১ বার পঠিত

মোবাইলে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বর্তমানে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ ৪৫ পয়সা। গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সর্বনিম্ন রেট কমানোর বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়।

জামালপুর থেকে অনলাইনে যুক্ত হওয়া রকীব রায়হান কলরেট কমানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দাবি জানান। জবাবে বিটিআরসি জানায়, বর্তমানে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন রেট ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ রেট ২ টাকা। সর্বনিম্ন রেট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিসুল আলম পারভেজ বলেন, রোলআউটের বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি হাওর ও অন্যান্য দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে টেলিটক একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

গণশুনানিতে টেলিযোগাযোগ সেবার মান, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, কলড্রপ, ভয়েস ও ডাটার দাম, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, সিম নিবন্ধন এবং ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নিয়েও গ্রাহকেরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

এক গ্রাহক মাস্কিং ছাড়া আসা এসএমএসের কারণে স্প্যাম বার্তা শনাক্তে সমস্যা এবং বিদেশি ওটিপি পেতে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিটিআরসি জানায়, ধাপে ধাপে সব ধরনের বার্তাকে মাস্কিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিদেশি ওটিপি পেতে মাঝে মাঝে দেরি হতে পারে।

ডাটা প্যাকেজের বিভিন্ন শর্ত ও বৈচিত্র্য নিয়েও প্রশ্ন করেন গ্রাহকেরা। কমিশন জানায়, প্রতিটি প্যাকেজের শর্ত গ্রাহকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিটিআরসি জানায়, নেটওয়ার্ক সচল রাখার সক্ষমতা বাড়াতে একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশের মোবাইল টাওয়ারগুলোর অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নিয়েও জানতে চান গ্রাহকেরা। বিটিআরসি জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টাওয়ারের বিকিরণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এসব পরিমাপে বিকিরণের মাত্রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম পাওয়া গেছে। সংস্থাটির দাবি, বর্তমান মাত্রা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ।

গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিটিআরসি জানায়, কলসেন্টার ১০০, ওয়েবসাইট ও জিআরএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ করা যায়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কমিশনে ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৭৯টি, অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৭০ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে এ অগ্রগতিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় কমিশন। দ্রুত সব অভিযোগের সমাধান করাই তাদের লক্ষ্য।

প্রতি মাসে হবে গণশুনানি

গণশুনানিতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর সংশোধিত ২০২৬ সালের ৮৭ ধারা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার গণশুনানির আয়োজন করবে কমিশন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁদের সমস্যা, মতামত, পরামর্শ ও উদ্বেগ তুলে ধরতে পারবেন। শুনানিতে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো কার্য-পর্যবেক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, এবারের গণশুনানিতে অংশ নিতে ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে ২ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৭ জন বিভিন্ন পেশার মানুষ, ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এবং ১৭২ জন নারী ছিলেন। নিবন্ধিত গ্রাহকদের প্রশ্নের মধ্যে ট্যারিফ, ডাটার মেয়াদ, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, সিম নিবন্ধন, এনইআইআর ও টেলিযোগাযোগ সেবার মানসংক্রান্ত বিষয়ই বেশি ছিল।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের গণশুনানিতে ১ হাজার ৭৫৬টি অভিযোগ ও প্রশ্ন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে বিটিআরসির আওতাভুক্ত ২২১টি বিষয় চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট চারটি বিভাগে সমাধানের জন্য পাঠানো হয় এবং সেগুলো নথিভুক্ত করা হয়েছে।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন। অনলাইন এ আয়োজনে গ্রাহক, মোবাইল অপারেটর, বিভিন্ন অংশীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

ট্যাগস :

কমতে যাচ্ছে মোবাইলের কলরেট

আপডেট সময় : ১১:১৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

মোবাইলে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বর্তমানে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ ৪৫ পয়সা। গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সর্বনিম্ন রেট কমানোর বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়।

জামালপুর থেকে অনলাইনে যুক্ত হওয়া রকীব রায়হান কলরেট কমানোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দাবি জানান। জবাবে বিটিআরসি জানায়, বর্তমানে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন রেট ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ রেট ২ টাকা। সর্বনিম্ন রেট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বিটিআরসির প্রকৌশল ও পরিচালনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিসুল আলম পারভেজ বলেন, রোলআউটের বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি হাওর ও অন্যান্য দুর্গম এলাকায় নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে টেলিটক একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

গণশুনানিতে টেলিযোগাযোগ সেবার মান, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, কলড্রপ, ভয়েস ও ডাটার দাম, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, সিম নিবন্ধন এবং ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নিয়েও গ্রাহকেরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

এক গ্রাহক মাস্কিং ছাড়া আসা এসএমএসের কারণে স্প্যাম বার্তা শনাক্তে সমস্যা এবং বিদেশি ওটিপি পেতে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিটিআরসি জানায়, ধাপে ধাপে সব ধরনের বার্তাকে মাস্কিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিদেশি ওটিপি পেতে মাঝে মাঝে দেরি হতে পারে।

ডাটা প্যাকেজের বিভিন্ন শর্ত ও বৈচিত্র্য নিয়েও প্রশ্ন করেন গ্রাহকেরা। কমিশন জানায়, প্রতিটি প্যাকেজের শর্ত গ্রাহকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিটিআরসি জানায়, নেটওয়ার্ক সচল রাখার সক্ষমতা বাড়াতে একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশের মোবাইল টাওয়ারগুলোর অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ নিয়েও জানতে চান গ্রাহকেরা। বিটিআরসি জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টাওয়ারের বিকিরণের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এসব পরিমাপে বিকিরণের মাত্রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম পাওয়া গেছে। সংস্থাটির দাবি, বর্তমান মাত্রা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য নিরাপদ।

গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিটিআরসি জানায়, কলসেন্টার ১০০, ওয়েবসাইট ও জিআরএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ করা যায়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কমিশনে ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৭৯টি, অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৭০ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে এ অগ্রগতিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় কমিশন। দ্রুত সব অভিযোগের সমাধান করাই তাদের লক্ষ্য।

প্রতি মাসে হবে গণশুনানি

গণশুনানিতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১-এর সংশোধিত ২০২৬ সালের ৮৭ ধারা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার গণশুনানির আয়োজন করবে কমিশন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁদের সমস্যা, মতামত, পরামর্শ ও উদ্বেগ তুলে ধরতে পারবেন। শুনানিতে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো কার্য-পর্যবেক্ষণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, এবারের গণশুনানিতে অংশ নিতে ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে ২ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৭ জন বিভিন্ন পেশার মানুষ, ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এবং ১৭২ জন নারী ছিলেন। নিবন্ধিত গ্রাহকদের প্রশ্নের মধ্যে ট্যারিফ, ডাটার মেয়াদ, ডাটা ক্যারি-ফরওয়ার্ড, নেটওয়ার্ক কাভারেজ, সিম নিবন্ধন, এনইআইআর ও টেলিযোগাযোগ সেবার মানসংক্রান্ত বিষয়ই বেশি ছিল।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের গণশুনানিতে ১ হাজার ৭৫৬টি অভিযোগ ও প্রশ্ন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে বিটিআরসির আওতাভুক্ত ২২১টি বিষয় চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট চারটি বিভাগে সমাধানের জন্য পাঠানো হয় এবং সেগুলো নথিভুক্ত করা হয়েছে।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার মাহমুদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন। অনলাইন এ আয়োজনে গ্রাহক, মোবাইল অপারেটর, বিভিন্ন অংশীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।