ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শঙ্কায় আরোও একটি

জ্বালানি সংকটে ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭ বার পঠিত

ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম। গ্যাসের অভাবে অঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আরও কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন নেমে এসেছে সক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশে। ফলে কাগজে-কলমে লোডশেডিং না থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে নগর ও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এই সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে ওয়াসার পানি সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। আর চট্টগ্রামের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মঙ্গলবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। আরও সাতটি কেন্দ্রে উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কেন্দ্রগুলো স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াটের কাপ্তাই সোলার, ২১০ মেগাওয়াট করে সক্ষমতার রাউজান-১ ও রাউজান-২, ২০ মেগাওয়াটের টেকনাফ সোলার এবং ৫০ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পাওয়ার।

এ ছাড়া আনলিমা এনার্জি লিমিটেড, আনোয়ারা ইউনাইটেড, বারাকা, বারাকা কর্ণফুলী, জুলদা-১, জুলদা-২ ও জুডিয়াক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে আনোয়ারা ইউনাইটেডের সক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াট, আনলিমা এনার্জির ১১৬ মেগাওয়াট, বারাকার ৫০ মেগাওয়াট এবং জুডিয়াকের ৫৪ মেগাওয়াট।

পিডিবির হিসাবে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পিক আওয়ারে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৬৮ দশমিক ৭৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও একই পরিমাণ। অফ-পিক আওয়ারে চাহিদা ৯৫৮ দশমিক ৮৭ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও সমপরিমাণ। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে চট্টগ্রামে লোডশেডিং থাকার কথা নয়। তবে বাস্তব চিত্র এর সঙ্গে মিলছে না। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বুধবার নগরীর কল্পলোক আবাসিক এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট, বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। শিল্পকারখানাতেও এর প্রভাব পড়েছে। বায়েজিদ বোস্তামী শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। শিল্পকারখানা, আবাসিক ভবন ও বড় অফিস-আদালতে জেনারেটর চালিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি গ্যাসের তীব্র সংকটও ভোগাচ্ছে চট্টগ্রামকে। গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ৩ মার্চ কারখানাটিতে উৎপাদন হয়েছিল। পরদিন ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানাটি চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে সিইউএফএলের এক হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন-জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে ৪ মার্চ থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি মাসের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার কথা আছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :

শঙ্কায় আরোও একটি

জ্বালানি সংকটে ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম। গ্যাসের অভাবে অঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আরও কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন নেমে এসেছে সক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশে। ফলে কাগজে-কলমে লোডশেডিং না থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে নগর ও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এই সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় টানা এক ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে ওয়াসার পানি সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। আর চট্টগ্রামের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মঙ্গলবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। আরও সাতটি কেন্দ্রে উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কেন্দ্রগুলো স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াটের কাপ্তাই সোলার, ২১০ মেগাওয়াট করে সক্ষমতার রাউজান-১ ও রাউজান-২, ২০ মেগাওয়াটের টেকনাফ সোলার এবং ৫০ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পাওয়ার।

এ ছাড়া আনলিমা এনার্জি লিমিটেড, আনোয়ারা ইউনাইটেড, বারাকা, বারাকা কর্ণফুলী, জুলদা-১, জুলদা-২ ও জুডিয়াক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে আনোয়ারা ইউনাইটেডের সক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াট, আনলিমা এনার্জির ১১৬ মেগাওয়াট, বারাকার ৫০ মেগাওয়াট এবং জুডিয়াকের ৫৪ মেগাওয়াট।

পিডিবির হিসাবে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পিক আওয়ারে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৬৮ দশমিক ৭৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও একই পরিমাণ। অফ-পিক আওয়ারে চাহিদা ৯৫৮ দশমিক ৮৭ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও সমপরিমাণ। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে চট্টগ্রামে লোডশেডিং থাকার কথা নয়। তবে বাস্তব চিত্র এর সঙ্গে মিলছে না। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বুধবার নগরীর কল্পলোক আবাসিক এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট, বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। শিল্পকারখানাতেও এর প্রভাব পড়েছে। বায়েজিদ বোস্তামী শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। শিল্পকারখানা, আবাসিক ভবন ও বড় অফিস-আদালতে জেনারেটর চালিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি গ্যাসের তীব্র সংকটও ভোগাচ্ছে চট্টগ্রামকে। গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ৩ মার্চ কারখানাটিতে উৎপাদন হয়েছিল। পরদিন ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানাটি চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে সিইউএফএলের এক হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন-জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে ৪ মার্চ থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি মাসের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার কথা আছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।