ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভালো দামে হাসি চাষি-ব্যবসায়ীদের মুখে

ডুমুরিয়ায় আঁশফলের বাম্পার ফলন

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৫৭ বার পঠিত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে আঁশফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের কম আক্রমণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে ধরেছে থোকায় থোকায় ফল। বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।

স্থানীয়ভাবে ‘কাঠলিচু’ নামে পরিচিত আঁশফল দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও এর স্বাদ আলাদা। মিষ্টি, রসালো ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এ ফলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। একসময় বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে চাষ হলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে আঁশফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেক কৃষক, বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, আটলিয়া, মাগুরাঘোনা, শোভনা, সাহস, গুটুদিয়া ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম এবং পরিচর্যা সহজ হওয়ায় প্রতিবছরই আঁশফল চাষের পরিধি বাড়ছে।

বর্তমানে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর এবং ডুমুরিয়া সদর বাজারে প্রতিদিন ভোর থেকে বসছে আঁশফলের জমজমাট পাইকারি হাট। খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং রাজধানী ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি এসব হাটে এসে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনে দেশের বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিটি আঁশফল ৩ থেকে ৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ফলভর্তি একটি গাছের পাইকারি দাম ফলনের পরিমাণ ও গাছের আকার অনুযায়ী এক হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাষিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভালো লাভের মুখ দেখছেন।

তবে ভালো ফলনের মধ্যেও চাষিদের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তা বাদুড়ের আক্রমণ। ফল পাকতে শুরু করলেই রাতের আঁধারে ঝাঁকে ঝাঁকে বাদুড় এসে ফল নষ্ট করে দেয়।

রুদাঘরা গ্রামের আঁশফল ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন, “ফল পাকার পর দ্রুত সংগ্রহ না করলে এমনিতেই ঝরে পড়ে। তার ওপর বাদুড় একবার গাছে বসলে এক রাতেই অনেক ফল নষ্ট করে দেয়। তাই এখন অনেক চাষিই বাড়তি খরচ করে পুরো গাছ জাল দিয়ে ঢেকে ফল রক্ষা করছেন।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু আঁশফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়ায় আঁশফলের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অল্প খরচে ভালো লাভ হওয়ায় আগামীতে এ অঞ্চলে আঁশফলের চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিদিন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে, দেশীয় এই ফলের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। ভালো ফলন, লাভজনক বাজারদর এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে চলতি মৌসুমকে ডুমুরিয়ার আঁশফল চাষিদের জন্য একটি সফল বছর হিসেবে দেখছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আঁশফল এ অঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

ভালো দামে হাসি চাষি-ব্যবসায়ীদের মুখে

ডুমুরিয়ায় আঁশফলের বাম্পার ফলন

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে আঁশফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের কম আক্রমণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে ধরেছে থোকায় থোকায় ফল। বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।

স্থানীয়ভাবে ‘কাঠলিচু’ নামে পরিচিত আঁশফল দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও এর স্বাদ আলাদা। মিষ্টি, রসালো ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এ ফলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। একসময় বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে চাষ হলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে আঁশফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেক কৃষক, বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, আটলিয়া, মাগুরাঘোনা, শোভনা, সাহস, গুটুদিয়া ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম এবং পরিচর্যা সহজ হওয়ায় প্রতিবছরই আঁশফল চাষের পরিধি বাড়ছে।

বর্তমানে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর এবং ডুমুরিয়া সদর বাজারে প্রতিদিন ভোর থেকে বসছে আঁশফলের জমজমাট পাইকারি হাট। খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং রাজধানী ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি এসব হাটে এসে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনে দেশের বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিটি আঁশফল ৩ থেকে ৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ফলভর্তি একটি গাছের পাইকারি দাম ফলনের পরিমাণ ও গাছের আকার অনুযায়ী এক হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাষিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভালো লাভের মুখ দেখছেন।

তবে ভালো ফলনের মধ্যেও চাষিদের অন্যতম বড় দুশ্চিন্তা বাদুড়ের আক্রমণ। ফল পাকতে শুরু করলেই রাতের আঁধারে ঝাঁকে ঝাঁকে বাদুড় এসে ফল নষ্ট করে দেয়।

রুদাঘরা গ্রামের আঁশফল ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন, “ফল পাকার পর দ্রুত সংগ্রহ না করলে এমনিতেই ঝরে পড়ে। তার ওপর বাদুড় একবার গাছে বসলে এক রাতেই অনেক ফল নষ্ট করে দেয়। তাই এখন অনেক চাষিই বাড়তি খরচ করে পুরো গাছ জাল দিয়ে ঢেকে ফল রক্ষা করছেন।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু আঁশফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়ায় আঁশফলের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অল্প খরচে ভালো লাভ হওয়ায় আগামীতে এ অঞ্চলে আঁশফলের চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতিদিন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে, দেশীয় এই ফলের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। ভালো ফলন, লাভজনক বাজারদর এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে চলতি মৌসুমকে ডুমুরিয়ার আঁশফল চাষিদের জন্য একটি সফল বছর হিসেবে দেখছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আঁশফল এ অঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।