ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাসখোলা খালে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত, বর্ষায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ৭৩ বার পঠিত

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৮ নম্বর নির্বাসখোলা ইউনিয়নের আশিংড়ী, শিওরদাহ ও নন্দীডুমুরিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি পুরাতন খালের পানিপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, খালের একটি অংশে মাছ চাষের জন্য নির্মিত অবকাঠামোর কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এ খালটি আশিংড়ী, শিওরদাহ, নন্দীডুমুরিয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

স্থানীয়দের দাবি, আশিংড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোহাব্বত আলী নন্দীডুমুরিয়া মৌজা এবং নাভারণ ইউনিয়নের বায়সা মৌজায় আফিল ফার্ম সংলগ্ন সরকারি কালভার্টের নিচে প্রাচীর নির্মাণ করে মাছ চাষ করছেন। এতে বর্ষাকালে খালের স্বাভাবিক পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

কৃষকদের মতে, প্রতিবছর বর্ষার অতিরিক্ত পানি এই খাল দিয়ে দ্রুত নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে পানি জমে থাকা, ফসলের ক্ষতি এবং গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নন্দীডুমুরিয়া ও আশিংড়ী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক না থাকলে বর্ষা মৌসুমে তিন থেকে চারটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে পারে, যা কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাব্বত আলী বলেন, এটি খাল দখল করে নতুন কোনো স্থাপনা নয়। প্রায় ২৫–২৬ বছর আগে থেকেই সেখানে পুকুর রয়েছে। খালটি আগেই ভরাট হয়ে গেছে এবং আশপাশেও অনেকেই নালা ও বাঁধ তৈরি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই খালটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা ও কৃষি ক্ষতি এড়ানো যায়।

ট্যাগস :

নির্বাসখোলা খালে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত, বর্ষায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:১৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৮ নম্বর নির্বাসখোলা ইউনিয়নের আশিংড়ী, শিওরদাহ ও নন্দীডুমুরিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি পুরাতন খালের পানিপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, খালের একটি অংশে মাছ চাষের জন্য নির্মিত অবকাঠামোর কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এ খালটি আশিংড়ী, শিওরদাহ, নন্দীডুমুরিয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

স্থানীয়দের দাবি, আশিংড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোহাব্বত আলী নন্দীডুমুরিয়া মৌজা এবং নাভারণ ইউনিয়নের বায়সা মৌজায় আফিল ফার্ম সংলগ্ন সরকারি কালভার্টের নিচে প্রাচীর নির্মাণ করে মাছ চাষ করছেন। এতে বর্ষাকালে খালের স্বাভাবিক পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

কৃষকদের মতে, প্রতিবছর বর্ষার অতিরিক্ত পানি এই খাল দিয়ে দ্রুত নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষিজমিতে পানি জমে থাকা, ফসলের ক্ষতি এবং গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নন্দীডুমুরিয়া ও আশিংড়ী গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক না থাকলে বর্ষা মৌসুমে তিন থেকে চারটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে পারে, যা কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাব্বত আলী বলেন, এটি খাল দখল করে নতুন কোনো স্থাপনা নয়। প্রায় ২৫–২৬ বছর আগে থেকেই সেখানে পুকুর রয়েছে। খালটি আগেই ভরাট হয়ে গেছে এবং আশপাশেও অনেকেই নালা ও বাঁধ তৈরি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই খালটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা ও কৃষি ক্ষতি এড়ানো যায়।