ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিখোঁজ প্রায় ১,৫০০

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯

আর্ন্তজাতিক ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০১:১০:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২১ বার পঠিত

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ। বুধবার সকালে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বন্যা আঘাত হানে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে রাসুওয়া ও আশপাশের জেলাগুলোতে প্রবল বন্যা দেখা দেয়। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। পরে এই স্রোত ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে নদীর ভাটির দিকে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়। অনেক জনপদ ও পর্যটন এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে নদীর তীর ও ভাটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে বন্যায় পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ নিখোঁজ রয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক। রাসুওয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় বুধবার সকালে অবস্থানকারী বা ওই পথে যাতায়াতকারী পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে পর্যটন বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, পর্যটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

এ ঘটনায় বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। এ পর্যন্ত ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া আরও ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সন্ধানে ভ্রমণ সংস্থা, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

তবে বন্যার প্রবল স্রোতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সড়ক ও সেতু ভেসে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া নিহত ও নিখোঁজের তথ্য যাচাই করছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট ও আল জাজিরা

ট্যাগস :

নিখোঁজ প্রায় ১,৫০০

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯

আপডেট সময় : ০১:১০:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ। বুধবার সকালে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বন্যা আঘাত হানে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে রাসুওয়া ও আশপাশের জেলাগুলোতে প্রবল বন্যা দেখা দেয়। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। পরে এই স্রোত ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে নদীর ভাটির দিকে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়। অনেক জনপদ ও পর্যটন এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে নদীর তীর ও ভাটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে বন্যায় পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ নিখোঁজ রয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক। রাসুওয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় বুধবার সকালে অবস্থানকারী বা ওই পথে যাতায়াতকারী পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে পর্যটন বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, পর্যটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

এ ঘটনায় বিদেশি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। এ পর্যন্ত ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া আরও ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সন্ধানে ভ্রমণ সংস্থা, ট্রেকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

তবে বন্যার প্রবল স্রোতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সড়ক ও সেতু ভেসে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া নিহত ও নিখোঁজের তথ্য যাচাই করছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট ও আল জাজিরা