ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঘ সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

দর্পণ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • / ৯ বার পঠিত

সুন্দরবনের বাঘ ও এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। তিনি বলেন, বাঘ শুধু বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণীই নয়, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই বাঘ সংরক্ষণ মানেই সুন্দরবনের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাঘ একটি ‘কিস্টোন স্পিসিস’, যা সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রতিবেশব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাঘ সংরক্ষণের মাধ্যমে বনজ সম্পদ, অন্যান্য বন্যপ্রাণী এবং তাদের প্রজননক্ষেত্রও সুরক্ষিত থাকে।

তিনি জানান, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাতে সরকার সম্প্রতি ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশন সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধি, অবৈধভাবে দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ, বন বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে। বাঘ সংরক্ষণে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ এবং স্থানীয় বননির্ভর জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, বাঘ ও বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা ট্রফি পাচারের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে আরও সক্রিয় করা হবে। একই সঙ্গে বাঘ-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি বলেন, বাঘ আমাদের সাহসিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সুন্দরবনে বাঘের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বাঘের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে ৮০টি পুকুর খনন এবং বিশ্রামের জন্য ২০টি টিলা নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লোকালয় ও বনাঞ্চলের মাঝে নাইলনের নেটের বেড়া স্থাপন করায় বাঘের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে বাঘের গুরুত্ব অপরিসীম। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

বাঘ সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সুন্দরবনের বাঘ ও এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। তিনি বলেন, বাঘ শুধু বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণীই নয়, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। তাই বাঘ সংরক্ষণ মানেই সুন্দরবনের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাঘ একটি ‘কিস্টোন স্পিসিস’, যা সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রতিবেশব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাঘ সংরক্ষণের মাধ্যমে বনজ সম্পদ, অন্যান্য বন্যপ্রাণী এবং তাদের প্রজননক্ষেত্রও সুরক্ষিত থাকে।

তিনি জানান, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাতে সরকার সম্প্রতি ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশন সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধি, অবৈধভাবে দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ, বন বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে। বাঘ সংরক্ষণে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ এবং স্থানীয় বননির্ভর জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, বাঘ ও বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা ট্রফি পাচারের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে আরও সক্রিয় করা হবে। একই সঙ্গে বাঘ-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি বলেন, বাঘ আমাদের সাহসিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সুন্দরবনে বাঘের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বাঘের সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে ৮০টি পুকুর খনন এবং বিশ্রামের জন্য ২০টি টিলা নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লোকালয় ও বনাঞ্চলের মাঝে নাইলনের নেটের বেড়া স্থাপন করায় বাঘের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে বাঘের গুরুত্ব অপরিসীম। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।