ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব জলবায়ু সপ্তাহ উপলক্ষে শ্যামনগরে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

আব্দুর রশিদ, সাতক্ষীরা
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৯ বার পঠিত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিশ্ব জলবায়ু সপ্তাহ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শ্যামনগরের কলবাড়ীতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন, গ্রীণ কোয়ালিশন ও বারসিক যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কে. এম. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে শুধু বৈশ্বিক সংকট নয়; এর প্রত্যক্ষ প্রভাব উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকায় দৃশ্যমান। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, মৎস্যসম্পদের ওপর চাপ এবং কৃষিতে পরিবর্তনের মতো সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি জানান, বিশ্ব জলবায়ু সপ্তাহ উপলক্ষে বারসিকের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী সংবাদ সম্মেলন, জলবায়ু ধর্মঘট, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখনই’ শীর্ষক বোর্ড স্ট্যাক, ‘Walk for Stop Poison Fishing & Save Mangrove Ecosystem’ শীর্ষক সচেতনতামূলক পদযাত্রা, এগ্রোইকোলজি চর্চা বিষয়ক আন্তঃপ্রজন্ম সংলাপ, ওয়েবিনার ও অনলাইন ক্যাম্পেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

আয়োজকেরা জানান, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সুন্দরবন ও উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ প্রতিবেশব্যবস্থা সংরক্ষণ এবং বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা বন্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা কৃষিজ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষিচর্চাকে উৎসাহিত করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ওয়েবিনার ও অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু বাস্তবতা, স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের ভূমিকা বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা হবে।

আয়োজকেরা বলেন, এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু একটি সপ্তাহ পালন নয়; বরং জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়কে স্থানীয় মানুষের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি চলমান সামাজিক উদ্যোগে রূপ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ পূর্ব কালিনগর নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি চন্দনা রানী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এছাড়া বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম, সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব জলবায়ু সপ্তাহ পালনের এ উদ্যোগে প্রধান সহযোগিতা করছে জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত বেসরকারি উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সপ্তাহব্যাপী এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ, কৃষক, নারী, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দাবিগুলো জাতীয় ও বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বারসিকের স.ম. ওসমান গনী ও এস.এম. জান্নাতুল নাঈম।

ট্যাগস :

বিশ্ব জলবায়ু সপ্তাহ উপলক্ষে শ্যামনগরে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিশ্ব জলবায়ু সপ্তাহ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শ্যামনগরের কলবাড়ীতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের উপকূলীয় আঞ্চলিক কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন, গ্রীণ কোয়ালিশন ও বারসিক যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্যামনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কে. এম. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে শুধু বৈশ্বিক সংকট নয়; এর প্রত্যক্ষ প্রভাব উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকায় দৃশ্যমান। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, মৎস্যসম্পদের ওপর চাপ এবং কৃষিতে পরিবর্তনের মতো সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি জানান, বিশ্ব জলবায়ু সপ্তাহ উপলক্ষে বারসিকের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী সংবাদ সম্মেলন, জলবায়ু ধর্মঘট, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখনই’ শীর্ষক বোর্ড স্ট্যাক, ‘Walk for Stop Poison Fishing & Save Mangrove Ecosystem’ শীর্ষক সচেতনতামূলক পদযাত্রা, এগ্রোইকোলজি চর্চা বিষয়ক আন্তঃপ্রজন্ম সংলাপ, ওয়েবিনার ও অনলাইন ক্যাম্পেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

আয়োজকেরা জানান, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সুন্দরবন ও উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ প্রতিবেশব্যবস্থা সংরক্ষণ এবং বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা বন্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা কৃষিজ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষিচর্চাকে উৎসাহিত করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ওয়েবিনার ও অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু বাস্তবতা, স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের ভূমিকা বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা হবে।

আয়োজকেরা বলেন, এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু একটি সপ্তাহ পালন নয়; বরং জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়কে স্থানীয় মানুষের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি চলমান সামাজিক উদ্যোগে রূপ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ পূর্ব কালিনগর নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি চন্দনা রানী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এছাড়া বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম, সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব জলবায়ু সপ্তাহ পালনের এ উদ্যোগে প্রধান সহযোগিতা করছে জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত বেসরকারি উন্নয়ন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সপ্তাহব্যাপী এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ, কৃষক, নারী, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দাবিগুলো জাতীয় ও বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বারসিকের স.ম. ওসমান গনী ও এস.এম. জান্নাতুল নাঈম।