ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / ৩১ বার পঠিত

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের পাড়িয়ালী ও হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচকাটিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ‘বড় খাল’-এর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। এতে অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প (সিএএফডিআরআইআরপি)-এর আওতায় নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদ-হাজিরহাট বাজার হয়ে কুলটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের বড় খালের ওপর ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় সাতক্ষীরার পলাশপোলের ঠিকাদার ইকবাল জমাদার। ২০২৪ সালের ১ মে কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজিরহাট থেকে দক্ষিণমুখী সড়কের বড় খালের ওপর নতুন কংক্রিটের পিলার নির্মাণ করা হলেও মাঝখানে পুরোনো সেতুর ভাঙা অংশ এখনো অপসারণ করা হয়নি। চলাচলের সুবিধার্থে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে কাঠ ও তক্তা দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ২০টি গ্রামের চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় পথচারী, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেককে যানবাহন ঠেলে অস্থায়ী সেতু পার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে কাঠের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গেলে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার কয়েকদিন কাজ করে আবার দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখেন। ফলে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি এগোয়নি।

পদ্মনাথপুর গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল আজিজ মোড়ল বলেন, “দুই বছর ধরে অল্প অল্প করে কাজ হচ্ছে। নড়বড়ে কাঠের সেতু দিয়ে ভ্যান পার করতে খুব কষ্ট হয়।”

ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের ঘাট শ্রমিক রোস্তম সরদার বলেন, “শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় একেবারেই যাতায়াত করা যায় না।”

পাঁচবাড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক ভুপতি রায় বলেন, “যাত্রী নামিয়ে ভ্যান টেনে সেতু পার করতে হয়। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগের শেষ নেই।”

হরিদাসকাটি গ্রামের কৃষক দেবদাস রায় বলেন, “এই সড়ক ব্যবহার করলে সময় ও দূরত্ব দুটোই কম লাগে। কিন্তু সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে আছি।”

এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ভবদহ এলাকার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বছরে প্রায় ছয় মাস কাজ করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে সেতুর ঢালাইয়ের জন্য শাটারিং বসানোর পাশাপাশি পুরোনো সেতুর অবশিষ্ট অংশ অপসারণের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। স্লাব নির্মাণ শেষ হলে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে। চলতি বছরের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করার আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, অস্থায়ী কাঠের সেতুটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় ঠিকাদারকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরে ঠিকাদার ইকবাল জমাদার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে পানি সেচে কাজ করতে হওয়ায় নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে। পুরোনো সেতু অপসারণের কাজ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে শেষ হবে। এরপর স্লাব নির্মাণ শুরু করা হবে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মূল নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই দিনের মধ্যে অস্থায়ী কাঠের সেতুটি মেরামত করা হবে বলেও তিনি জানান।

এক বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের পাড়িয়ালী ও হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচকাটিয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ‘বড় খাল’-এর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। এতে অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প (সিএএফডিআরআইআরপি)-এর আওতায় নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদ-হাজিরহাট বাজার হয়ে কুলটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সড়কের বড় খালের ওপর ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি আরসিসি গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯২ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ পায় সাতক্ষীরার পলাশপোলের ঠিকাদার ইকবাল জমাদার। ২০২৪ সালের ১ মে কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজিরহাট থেকে দক্ষিণমুখী সড়কের বড় খালের ওপর নতুন কংক্রিটের পিলার নির্মাণ করা হলেও মাঝখানে পুরোনো সেতুর ভাঙা অংশ এখনো অপসারণ করা হয়নি। চলাচলের সুবিধার্থে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে কাঠ ও তক্তা দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ২০টি গ্রামের চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় পথচারী, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেককে যানবাহন ঠেলে অস্থায়ী সেতু পার হতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে কাঠের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গেলে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার কয়েকদিন কাজ করে আবার দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখেন। ফলে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি এগোয়নি।

পদ্মনাথপুর গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল আজিজ মোড়ল বলেন, “দুই বছর ধরে অল্প অল্প করে কাজ হচ্ছে। নড়বড়ে কাঠের সেতু দিয়ে ভ্যান পার করতে খুব কষ্ট হয়।”

ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের ঘাট শ্রমিক রোস্তম সরদার বলেন, “শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় একেবারেই যাতায়াত করা যায় না।”

পাঁচবাড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক ভুপতি রায় বলেন, “যাত্রী নামিয়ে ভ্যান টেনে সেতু পার করতে হয়। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগের শেষ নেই।”

হরিদাসকাটি গ্রামের কৃষক দেবদাস রায় বলেন, “এই সড়ক ব্যবহার করলে সময় ও দূরত্ব দুটোই কম লাগে। কিন্তু সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে আছি।”

এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ভবদহ এলাকার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বছরে প্রায় ছয় মাস কাজ করা সম্ভব হয় না। বর্তমানে সেতুর ঢালাইয়ের জন্য শাটারিং বসানোর পাশাপাশি পুরোনো সেতুর অবশিষ্ট অংশ অপসারণের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। স্লাব নির্মাণ শেষ হলে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে। চলতি বছরের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করার আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, অস্থায়ী কাঠের সেতুটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় ঠিকাদারকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরে ঠিকাদার ইকবাল জমাদার বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে পানি সেচে কাজ করতে হওয়ায় নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে। পুরোনো সেতু অপসারণের কাজ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে শেষ হবে। এরপর স্লাব নির্মাণ শুরু করা হবে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মূল নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই দিনের মধ্যে অস্থায়ী কাঠের সেতুটি মেরামত করা হবে বলেও তিনি জানান।