সাংবাদিকের উদ্যোগে চাচার হেফাজতে
মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার ১২ বছরের বালক
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৯ বার পঠিত

দুই পায়ের নিচে কালচে দাগ, হাঁটুর নিচে ক্ষতচিহ্ন, মুখ ও মাথাজুড়ে আঘাতের ছাপ। চোখেমুখে হতাশার ছাপ। ১২ বছরের আবু দাউদকে দেখলে যে কারও মনে হবে, দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে সে। এমন এক কিশোরকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার চাচার হেফাজতে তুলে দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাংবাদিক এস এম তাজাম্মুল।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর আদ্-দীন মোড়ে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় আবু দাউদকে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দৈনিক যশোর বার্তার মণিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি ও মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাংবাদিক এস এম তাজাম্মুল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয় যুবক মাসুদ পারভেজের সহযোগিতায় বালকটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি কক্ষে আবু দাউদের সঙ্গে কথা বলে তার কাছ থেকে নির্যাতনের অভিযোগের কথা জানতে পারেন সাংবাদিক তাজাম্মুল। বালকটি দাবি করে, দীর্ঘদিন ধরে তার বাবা ইদ্রিস আলী ও সৎমা রুপা খাতুন তাকে ঘরে আটকে মারধর করতেন। একপর্যায়ে তার পা বেঁধে মাথা নিচের দিকে করে দড়িতে ঝুলিয়েও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সে।
আবু দাউদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে কোনোভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে নাভারন থেকে হেঁটে মণিরামপুরের মোহনপুরে আসে সে। দীর্ঘ পথ হেঁটে এসে অসুস্থ হয়ে সেখানে পড়ে যায়।
আবু দাউদ কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেনের নির্দেশনায় তার পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আবু দাউদের চাচা ইসমাইল হোসেন প্রশাসনিক নিরাপত্তার মাধ্যমে মণিরামপুর থেকে তাকে নিজের হেফাজতে নিয়ে যান।
ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তার ভাই ইদ্রিস আলীর স্ত্রী রুপা খাতুনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে নানা বিরোধ ছিল। এমনকি রুপা তার স্বামীকেও মারধর করতেন বলে দাবি করেন তিনি। এ বিরোধের জেরে কেশবপুরের পৈত্রিক ভিটা বিক্রি করে রুপা তার বাবার বাড়ি নাভারনে চলে যান। গত পাঁচ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই বলেও জানান ইসমাইল।
সাংবাদিক এস এম তাজাম্মুল বলেন, “এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের বিপদে যদি মানুষ এগিয়ে না আসে, তাহলে আমরা মানুষ পরিচয় কীভাবে দেব?” তিনি আরও জানান, আবু দাউদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
এদিকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা কিশোরকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার স্বজনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক এস এম তাজাম্মুলের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
























